জাতীয় নাগরিক দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটকে স্থানীয় প্রশাসন ও মিডিয়ার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে তাদের প্রার্থীদের ওপর হামলা, পোলিং এজেন্টদের হুমকি এবং অর্থ সংগ্রহের নামে ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা করার ঘটনা বাড়ছে।
আসিফের মতে, মিডিয়ার কভারেজে একপাক্ষিকতা স্পষ্ট, যা জোটের প্রচার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি বলেন, “মিডিয়াতে একপাক্ষিক আচরণ দেখছি, আমাদের প্রার্থীদের ওপর হামলা, পোলিং এজেন্টদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে” এবং এইসব কাণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রধান কারণ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, কিছু মিডিয়া সংস্থা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে চায়। এই প্রচেষ্টা জোটের ভোটাভুটি জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে এবং ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে লক্ষ্যবস্তু। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “মিস ইনফরমেশন ছড়িয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার চেষ্টা চলছে”।
আসিফের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের নিরাপত্তা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার জোটের নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সাপোর্টে সহযোগিতা না করে, তাদের দখল প্রতিরোধে অসহযোগিতা করছে। এই পরিস্থিতিতে জোটের সদস্যদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে বলে তিনি সতর্কতা প্রকাশ করেন।
মিডিয়াকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়ে আসিফ বলেন, নির্বাচনের পর যদি কোনো মিডিয়া সংস্থা পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ দেখায় তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “এবার আর আগের মতো হবে না, নির্বাচনের আগে যদি পক্ষপাতিত্ব করেন তার জবাব ১২ ফেব্রুয়ারির পর দেওয়া হবে”।
এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি জাতীয় নাগরিক দল এবং তার জোটের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয় তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে এই অভিযোগের প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা রয়েছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
জাতীয় নাগরিক দল নির্বাচনের আগে মিডিয়ার বায়াস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, এবং নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি দাবি করে, ভোটারদের স্বচ্ছ তথ্য সরবরাহ এবং নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে আসিফ জোটের সদস্যদের নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সাপোর্টের জন্য তৎক্ষণাত ব্যবস্থা চেয়েছেন, এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা না পেলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি শেষ কথা বলেন, “তাদের নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে হবে, না হলে নির্বাচনের ফলাফল ন্যায়সঙ্গত হবে না”।



