বিরামপুরের পলাশবাড়ী গ্রামে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ভোটারদের মধ্যে জিলাপি টোকেন বিতরণের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলাকালীন জামায়াত-এ-ইসলামির তিনজন উচ্চপদস্থ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত একটি প্রচারমূলক কার্যক্রমের সময় ঘটেছে।
অভিযানটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নওরীনের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। তিনি স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে পলাশবাড়ী গ্রামে টোকেন বিতরণকারী দলকে লক্ষ্যবস্তু করে কার্যক্রম চালান। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন বিরামপুর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে মুকুল সরকার, একই এলাকার মৃত লালু ব্যাপারীর ছেলে শামসুল হক, এবং গড়েরপার শিমুলতলী গ্রামের মৃত ফজর উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল।
পুলিশের মতে, এই তিনজনকে জামায়াত-এ-ইসলামির নেতাকর্মী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তারা নির্বাচনী প্রচারকালে ভোটারদের কাছে টোকেন বিতরণে জড়িত ছিলেন। গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে ২৫টি জিলাপি টোকেন জব্দ করা হয়, যা বিতরণে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
গ্রেফতারকৃতদের স্থানীয় থানায় নিয়ে গিয়ে হেফাজতে রাখা হয়। বর্তমানে তারা থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নওরীন উভয়ই ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গ্রেফতার ও জব্দের কাজ সম্পন্ন করেন। তারা উল্লেখ করেন, টোকেন বিতরণ নির্বাচনী কোডের লঙ্ঘন হতে পারে এবং এ ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিক তদন্তের পর যদি প্রমাণিত হয় যে টোকেন বিতরণ ভোটারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্বাচন আইনের ধারা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতে, এমন প্রচারমূলক উপকরণ ব্যবহার নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষুণ্ন করে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন উভয়ই বিষয়টি নজরে রাখছে। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় সকল প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং ভোটারকে কোনো ধরনের প্রণোদনা থেকে রক্ষা করতে কঠোর নজরদারি চালু থাকবে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নির্বাচন কোডের লঙ্ঘন, ভোটারকে প্রণোদনা প্রদান এবং নির্বাচনী প্রচারকালে অবৈধ উপকরণ ব্যবহার। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।
অধিকন্তু, স্থানীয় পুলিশ বিভাগ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ভবিষ্যতে সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। তারা বলছে, নির্বাচনী সময়কালে কোনো ধরনের অবৈধ প্রচার কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এই গ্রেফতার এবং জব্দের ঘটনা নির্বাচনী সময়কালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ভোটারকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বিরামপুরে চলমান তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, যদি প্রমাণিত হয় যে টোকেন বিতরণ ভোটারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নির্বাচনী কোডের প্রয়োগে আরও কঠোরতা বজায় রাখা হবে।



