ইনর্শিয়া এন্টারপ্রাইজেস, যুক্তরাষ্ট্রের ফিউশন শক্তি স্টার্ট‑আপ, সাম্প্রতিক সিরিজ এ রাউন্ডে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে। এই রাউন্ডের প্রধান বিনিয়োগকারী বেসেমার ভেঞ্চার পার্টনার্স, আর গুগলের ভেঞ্চার গৃহ জিভি, মডার্ন ক্যাপিটাল, থ্রেশহোল্ড ভেঞ্চারসসহ অন্যান্য সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে। তহবিলের মূল উদ্দেশ্য ২০৩০ সালে গ্রিড‑স্কেল ফিউশন পাওয়ার প্ল্যান্টের নির্মাণ শুরু করা।
ইনর্শিয়া লরেন্স লাইভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ন্যাশনাল ইগনিশন ফ্যাসিলিটি (NIF) থেকে প্রাপ্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে। NIF বিশ্বে একমাত্র নিয়ন্ত্রিত ফিউশন প্রতিক্রিয়া অর্জন করেছে, যেখানে উৎপন্ন শক্তি শুরুতে প্রয়োজনীয় শক্তির চেয়ে বেশি হয়েছে, অর্থাৎ বৈজ্ঞানিক ব্রেক‑ইভেন অর্জিত হয়েছে। ইনর্শিয়া এই সাফল্যের ভিত্তিতে বৃহৎ স্কেলের লেজার সিস্টেম তৈরি করে গ্রিড‑লেভেল শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে।
প্রস্তাবিত লেজার সিস্টেমটি প্রতি সেকেন্ডে দশবার, প্রতিবার ১০ কিলোজুল শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। এই ক্ষমতা অর্জনের জন্য কোম্পানি এক হাজার লেজার ইউনিট ব্যবহার করে ৪.৫ মিমি ব্যাসের জ্বালানি টার্গেটকে আঘাত করবে। টার্গেটের উৎপাদন খরচ এক ডলারের নিচে রাখতে পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে বৃহৎ পরিমাণে সাশ্রয়ীভাবে উৎপাদন সম্ভব হয়।
ইনর্শিয়ার ফিউশন পদ্ধতি ইনর্শিয়াল কনফাইনমেন্ট নামে পরিচিত, যেখানে উচ্চ শক্তির লেজার জ্বালানি পিলেটের উপর আঘাত করে তা সংকুচিত করা হয়। লেজার আলো টার্গেটের ভিতরে এক্স‑রে রূপান্তরিত হয়, এবং এই এক্স‑রে জ্বালানিকে তাপ ও চাপে গরম করে ফিউশন ঘটায়। এই প্রক্রিয়া NIF‑এর মূল নকশার উপর ভিত্তি করে, তবে ইনর্শিয়া উৎপাদন স্কেল ও খরচ কমাতে অতিরিক্ত অপ্টিমাইজেশন যোগ করেছে।
একটি পূর্ণাঙ্গ ফিউশন প্ল্যান্টে মোট এক হাজার লেজার ব্যবহার হবে, যেখানে প্রতিটি লেজার ৪.৫ মিমি টার্গেটকে লক্ষ্য করবে। NIF‑এর বর্তমান সিস্টেমে ১৯২টি লেজার ব্যবহার করা হয়, এবং টার্গেট তৈরিতে বহু ঘন্টা সময় লাগে। ইনর্শিয়া এই পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইনে টার্গেট তৈরি করে খরচ ও সময় কমাতে চায়, ফলে বৃহৎ পরিসরে শক্তি উৎপাদন সম্ভব হবে।
ইনর্শিয়ার প্রতিষ্ঠাতা দলের মধ্যে রয়েছে জেফ লসন, যিনি টুইলিওর সহ‑প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন সিইও, অ্যানি কিরচার, যিনি NIF‑এর সফল ফিউশন পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন, এবং মাইক ডান, স্ট্যানফোর্ডের অধ্যাপক, যিনি লরেন্স লাইভারমোর সঙ্গে মিলিয়ে পাওয়ার প্ল্যান্টের নকশা তৈরি করেছেন। অ্যানি কিরচার এখনও লরেন্স লাইভারমোরে কাজ করছেন, যা গবেষণা ও শিল্পের সংযোগকে শক্তিশালী করে।
বৈজ্ঞানিক ব্রেক‑ইভেন অর্জনের পরেও ফিউশন শক্তি গ্রিডে সরবরাহের জন্য উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। ইনর্শিয়ার লক্ষ্য হল লেজারকে নির্ভরযোগ্যভাবে ১০ কিলোজুল শক্তি দশবার প্রতি সেকেন্ডে উৎপাদন করা, এবং তা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলভাবে চালানো। তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে কোম্পানি লেজার উৎপাদন, টার্গেট ম্যানুফ্যাকচারিং এবং সাইট‑সিলেকশনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করবে।
ফিউশন শক্তি যদি বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়, তবে তা বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমাতে, কার্বন নির্গমন হ্রাস করতে এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই শক্তি সরবরাহের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। ইনর্শিয়া এন্টারপ্রাইজেসের এই বড় তহবিল সংগ্রহ এবং ২০৩০ সালের নির্মাণ পরিকল্পনা ফিউশন প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



