20 C
Dhaka
Thursday, February 12, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প দাবি ১০টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানো

ট্রাম্প দাবি ১০টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত থামানো

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পরেও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা নিয়ে মন্তব্য করে, যে তিনি আটটি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন এবং এদের মধ্যে ছয়টি শুল্ক নীতি প্রয়োগের ফলে থেমেছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি উভয় পক্ষ যুদ্ধ চালিয়ে যায় তবে তিনি শুল্ক আরোপের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করবেন, কারণ তিনি মানুষের প্রাণহানি না দেখতে চান।

ট্রাম্পের মতে, শুল্কের হুমকি না থাকলে উভয় দেশ পারমাণবিক সংঘাতে প্রবেশের ঝুঁকি নিতে পারত। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে মোট দশটি যুদ্ধবিমান মাটিতে নেমে গিয়েছে, যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি এই বিমানগুলো কোন দেশের।

ফক্স বিজনেসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, তার হস্তক্ষেপের ফলে এক কোটি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। ট্রাম্প এটিকে তার আন্তর্জাতিক ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করেন।

তিনি আরও জোর দেন, শুল্কের অনুপস্থিতি পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহারকে সহজতর করত, ফলে যুদ্ধের পরিসর বিস্তৃত হতো। এই বক্তব্যের পেছনে তিনি যুক্তি দেন, অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে উভয় দেশকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখা সম্ভব।

গত বছর ১০ মে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণাঙ্গ ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এরপর থেকে তিনি ৮০‑এর বেশি বার নিজেকে এই সংঘাতের সমাধানকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই দাবি তার পূর্ববর্তী মন্তব্যের ধারাবাহিক, যেখানে তিনি প্রথমে পাঁচটি, পরে সাতটি এবং সর্বশেষে আটটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

ইতিহাসগতভাবে, ভারত ৭ মে ২০২২-এ পাকিস্তানে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে একটি সামরিক অভিযান চালায়, যা পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে করা হয়। এই পদক্ষেপের পূর্বে ২২ এপ্রিল পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন, যা ভারতের দৃষ্টিতে প্রতিক্রিয়ার কারণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়।

অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা শীর্ষে পৌঁছায় এবং প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ট্রাম্পের মতে, এই সময়ে পারমাণবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত, তবে শুল্কের হুমকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেছে।

ভারত সরকার তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ অস্বীকার করে এবং যুক্তি দেয় যে তার নিজস্ব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যথেষ্ট। তবুও, মার্কিন সরকার এবং ট্রাম্পের মন্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি পুনরায় এই অঞ্চলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের দিকে ফিরে আসে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, ট্রাম্পের এই ধরনের দাবিগুলি তার নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যবহার করা হতে পারে, তবে বাস্তবিকভাবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক সংলাপ এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনও প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

ভবিষ্যতে, যদি শুল্ক নীতি বা অন্য কোনো অর্থনৈতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা কমানো যায়, তবে উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তি গড়ে তোলার সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের মন্তব্যের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাবের পুনর্মূল্যায়ন এবং অঞ্চলে নতুন কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের দাবি যে দশটি যুদ্ধবিমান মাটিতে নেমে গিয়েছিল এবং তার হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে, তা এখনও বিতর্কের বিষয়। তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাতের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা এবং অর্থনৈতিক চাপের ব্যবহার ভবিষ্যতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments