প্রোটনের আকার ও গঠন সংক্রান্ত সর্বশেষ মাপ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়েছে, যা মৌলিক পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্বের সঠিকতা যাচাইয়ের নতুন সুযোগ দেয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা দল, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও জাপানের বিজ্ঞানী অন্তর্ভুক্ত, জেনেভা, সুইজারল্যান্ডের পল শ্যারার ইনস্টিটিউটে (PSI) উন্নত লেজার স্পেকট্রোস্কপি ব্যবহার করে প্রোটনের চার্জ রেডিয়াস নির্ধারণ করেছে।
এই মাপের নির্ভুলতা পূর্বের ফলাফলের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি, ফলে প্রোটনের রেডিয়াস ০.৮৪১ ফেমটোমিটার (১ ফেমটোমিটার = ১০⁻১৫ মিটার) এবং অনিশ্চয়তা মাত্র ০.০০১ ফেমটোমিটার পাওয়া গেছে। ফলাফলটি প্রোটন রেডিয়াস পাজল নামে পরিচিত বিরোধ সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যেখানে ইলেকট্রন স্ক্যাটারিং ও মিউয়নিক হাইড্রোজেন স্পেকট্রোস্কোপির ফলাফলে পার্থক্য দেখা গিয়েছিল।
প্রয়োগকৃত পদ্ধতিতে প্রোটনকে অত্যন্ত শীতল অবস্থায় রাখে এবং লেজার কণার সঙ্গে তার পারস্পরিক ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই প্রযুক্তি প্রোটনের অভ্যন্তরীণ চার্জ বণ্টনকে সরাসরি মাপতে সক্ষম, ফলে তাত্ত্বিক মডেলগুলোর পূর্বাভাসের সঙ্গে তুলনা করা সহজ হয়। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, এই মাপের ফলাফল কোয়ান্টাম ইলেক্ট্রোডাইনামিক্স (QED) এবং স্ট্যান্ডার্ড মডেলের কিছু অনুমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য এখনও রয়ে গেছে।
ফলাফলটি সাইন্স নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, স্ট্যান্ডার্ড মডেলের সবচেয়ে মৌলিক অংশ, যেমন কুয়ার্ক ও গ্লুয়নগুলোর শক্তি স্তর, প্রোটনের গঠনকে প্রভাবিত করে। নতুন মাপের মাধ্যমে এই তত্ত্বের নির্দিষ্ট প্যারামিটার, যেমন গ্লুয়ন ফিল্ডের শক্তি ঘনত্ব, আরও সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। গবেষকরা ভবিষ্যতে একই পদ্ধতি ব্যবহার করে নিউট্রন ও অন্যান্য হ্যাড্রনের মাপও করতে পরিকল্পনা করছেন, যা কণার গঠনগত তত্ত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।
এই গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট, জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় (সান ডিয়েগো) থেকে বিজ্ঞানীরা একত্রে কাজ করেছেন। তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা মাপের নির্ভুলতা বাড়াতে এবং সম্ভাব্য সিস্টেমেটিক ত্রুটি দূর করতে সহায়তা করেছে।
প্রোটন মাপের এই নতুন ফলাফল, যদিও তাত্ত্বিক পূর্বাভাসের সঙ্গে বেশিরভাগই মিলে, তবুও কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য নির্দেশ করে যে স্ট্যান্ডার্ড মডেলের কিছু দিক এখনও পর্যালোচনার প্রয়োজন। বিশেষ করে, প্রোটনের অভ্যন্তরীণ গ্লুয়ন ডাইনামিক্সের সুনির্দিষ্ট আচরণ নিয়ে গবেষণার নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ফলাফলকে স্বাগত জানানো হয়েছে এবং এটি ভবিষ্যৎ পরীক্ষার জন্য একটি রেফারেন্স পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরবর্তী গবেষণায় উচ্চতর শক্তির কণার ত্বরক ব্যবহার করে প্রোটনের গঠনকে আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হবে, যা কণার পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক নীতিগুলোকে পুনরায় যাচাই করতে সাহায্য করবে।
প্রোটন মাপের এই অগ্রগতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সংযোগকে শক্তিশালী করে, এবং সাধারণ মানুষকে কণার জগতে ঘটে যাওয়া সূক্ষ্ম পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন করে। ভবিষ্যতে এই ধরনের নির্ভুল মাপের মাধ্যমে নতুন পদার্থবিজ্ঞানীয় আবিষ্কারের সম্ভাবনা বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত আমাদের দৈনন্দিন প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রয়োগ পেতে পারে।
আপনি কি মনে করেন, প্রোটনের এই নতুন মাপ কণার তত্ত্বের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে কতটা প্রভাব ফেলবে? আপনার মতামত শেয়ার করুন।



