আফ্রিকান ফুটবল সংস্থা (CAF) আগামী সপ্তাহে দার‑এ‑সালামে অনুষ্ঠিত নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ২০২৭ আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে গভীর আলোচনা করবে। কেনিয়া, তানজানিয়া ও উগান্ডা একসাথে হোস্ট করার পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও, এই তিন দেশের অবকাঠামো ও লজিস্টিক্সের সক্ষমতা সম্পর্কে বড় ধরনের উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে। একই সঙ্গে, মরক্কোর নারী এফকন হোস্ট পদত্যাগের সম্ভাবনাও এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত।
CAF‑এর নির্বাহী কমিটি শুক্রবার দার‑এ‑সালামে মিলিত হবে, যেখানে হোস্ট দেশের প্রস্তুতি ও টুর্নামেন্টের সময়সূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকে হোস্ট দেশগুলোর স্টেডিয়াম, হোটেল ও পরিবহন ব্যবস্থা যথাযথ কিনা, তা মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া, নারী এফকনের হোস্ট প্রত্যাহার সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
গত ডিসেম্বর CAF‑এর সভাপতি প্যাট্রিস মোতসেপে ঘোষণা করেন, ২০২৮ সাল থেকে এফকন প্রতি চার বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হবে, দুই বছর অন্তর নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৭ টুর্নামেন্টটি কেনিয়া, তানজানিয়া ও উগান্ডায় অনুষ্ঠিত হবে, আর ২০২৯ সংস্করণটি ২০২৮ সালে স্থানান্তরিত হবে। এই পরিবর্তনের ফলে ২০২৭‑এর পরবর্তী এফকন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হবে, যা পূর্বের দ্বি‑বছরের চক্রকে শেষ করবে।
কেনিয়া, তানজানিয়া ও উগান্ডা তিনটি দেশেই ২৪ দলীয় টুর্নামেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় স্টেডিয়াম ও প্রশিক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলার কাজ চলমান, তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এই কাজের অগ্রগতি প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে ধীর। ১০টি শহরে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, বিদ্যমান সড়ক, বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট না হলে টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু পরিচালনা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
গত বছর আগস্ট এই দেশগুলোতে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপ (CHAN) অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে টিকিট বিক্রয় ও স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা এখন হোস্ট প্রস্তুতির মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্টেডিয়ামগুলোর সিকিউরিটি প্রোটোকল, দর্শক প্রবেশদ্বার ও জরুরি সেবা ব্যবস্থা এখনও সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা করা বাকি।
অধিকন্তু, আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে বিশ্বকাপের গ্রীষ্মকালীন ম্যাচ ও আফ্রিকান কুয়ালিফায়ার শিডিউল সমন্বয় করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১০টি আফ্রিকান দল গ্রীষ্মে বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হওয়ায়, এফকনের যোগ্যতা নির্ধারণের সময়সূচি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এই সময়সীমা পূরণে হোস্ট দেশগুলোর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যদি টুর্নামেন্টটি এক বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়, তবে ২০২৮ সালের এফকন বাতিল হয়ে যাবে। ইথিওপিয়া পূর্বে ২০২৮ সংস্করণের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা‑বটসোয়ানা যৌথ প্রস্তাবের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজস্ব আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। এই পরিস্থিতিতে CAF নতুনভাবে আফ্রিকান নেশনস লিগ (ANL) ২০২৯ সালে চালু করার পরিকল্পনা করছে, যা দ্বি‑বছরের এফকনকে প্রতিস্থাপন করবে।
মরক্কোর নারী এফকন হোস্ট পদত্যাগের সম্ভাবনা একই সময়ে আলোচনার বিষয়। নারী টুর্নামেন্টের জন্য মরক্কোকে হোস্ট হিসেবে নির্ধারিত করা হয়েছিল, তবে আর্থিক ও লজিস্টিক্সের চ্যালেঞ্জের কারণে দেশটি প্রত্যাহার করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিষয়টি হোস্ট দেশের প্রস্তুতি ও টুর্নামেন্টের সামগ্রিক সময়সূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, CAF এখন কেনিয়া, তানজানিয়া ও উগান্ডার অবকাঠামো প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার সমন্বয় এবং মরক্কোর নারী এফকন হোস্ট প্রত্যাহারসহ বহু বিষয় বিবেচনা করছে। এই সব বিষয়ের সমাধান না হলে ২০২৭ আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস ২০২৮ পর্যন্ত স্থগিত হতে পারে, এবং ভবিষ্যতে নতুন লিগের সূচনা ঘটতে পারে।



