আজ দুপুর ১২টায় থাকুরগাঁও জেলার জামায়াত-এ-ইসলামি আমীর বেলাল উদ্দিন প্রধানে সৈদপুর বিমানবন্দরে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা নগদে ধরা পড়ে। একই সময়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস.এম. রাগিব সামাদ দেশীয় ফ্লাইটে নগদ বহনের ওপর কোনো সীমা আরোপ করা হয়নি বলে জানিয়ে দেন।
বেলাল উদ্দিন প্রধানের গাড়ি থেকে প্রায় সাত কোটি চৌদ্দ লক্ষ টাকার নগদ বেরিয়ে আসে, যা পুলিশ দ্রুত বাজেয়াপ্ত করে। গ্রেপ্তারটি স্থানীয় পুলিশ বিভাগের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয় এবং সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার পর বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক রাগিব সামাদ প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন যে, দেশীয় রুটে যাত্রীদের নগদ বহনের ক্ষেত্রে কোনো আইনগত সীমা নির্ধারিত নেই। তিনি বলেন, “দেশীয় ভ্রমণে নগদ নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণভাবে যাত্রীদের স্বাধীনতা, আর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।” এই বক্তব্যটি বিমানবন্দরের অফিসিয়াল ঘোষণায় প্রকাশিত হয়।
রাগিব সামাদ আরও জানান, কাস্টমস বিভাগের দায়িত্ব কেবল আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সীমাবদ্ধ, যেখানে শুল্ক ও কর আরোপের প্রয়োজন হয়। তিনি উল্লেখ করেন, “সৈদপুরে পাওয়া নগদ পরিমাণ বড় হলেও আমরা কাস্টমসের সঙ্গে পরামর্শ করেছি; তারা জানিয়েছে যে এই বিষয়টি তাদের অধিক্ষেত্রের বাইরে।” ফলে কাস্টমসের কোনো আপত্তি প্রকাশিত হয়নি।
কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে, দেশীয় রুটে নগদ বহনের ক্ষেত্রে তাদের কোনো নিয়মাবলী প্রযোজ্য নয় এবং তারা শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক গমনাগমনের ক্ষেত্রে শুল্ক ও কর সংক্রান্ত কাজ করে। তাই বেলাল উদ্দিন প্রধানের নগদ সংক্রান্ত বিষয়টি কাস্টমসের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক রাগিব সামাদ উল্লেখ করেন যে, এ পর্যন্ত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা থেকে দেশীয় ভ্রমণে বড় পরিমাণ নগদ বহন নিষিদ্ধ করার কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “এধরনের কোনো নির্দেশনা না থাকায় আমরা বর্তমান নীতি বজায় রাখছি।” এই মন্তব্যটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত অবস্থানকে স্পষ্ট করে।
প্রতিবেদন অনুসারে, বেলাল উদ্দিন প্রধানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি, তবে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ফলাফল ও সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে তথ্য প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা দেশীয় ভ্রমণে নগদ বহনের নিয়মাবলী নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। তবে বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী যাত্রীরা যেকোনো পরিমাণ নগদ বহন করতে পারেন, এবং কাস্টমসের দায়িত্ব কেবল আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে সীমাবদ্ধ। ভবিষ্যতে কোনো বিধি পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জনসাধারণের কাছে জানাবে।



