বিএনপি ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদি আমিন আজ গোলশান অফিসে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়ে, ভোট জালিয়াতি রোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সকল গণতান্ত্রিক দলের প্রতি পারস্পরিক সহাবস্থান ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার অনুরোধ করেন, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া কোনো সহিংসতা ছাড়া সম্পন্ন হয়।
মাহদি আমিন উল্লেখ করেন যে, সৈদপুর বিমানবন্দরে ঘটিত ঘটনা একক ঘটনা হিসেবে দেখা যায় না। তিনি দাবি করেন, কিছু গোষ্ঠী নির্বাচনের আগে বাধা সৃষ্টি করতে চায় এবং বিএনপি’র অবশ্যম্ভাবী জয়ের সম্ভাবনাকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এই বক্তব্যের সঙ্গে তিনি মিডিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখিত জামায়াত-এ-ইসলামির শীর্ষ জেলা পর্যায়ের নেতার গতিবিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেন।
মিডিয়া সূত্রে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনের আগের সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাওয়ার পথে একটি উচ্চপর্যায়ের জামায়াত-এ-ইসলামি নেতা বিশাল পরিমাণ টাকা বহন করে ছিলেন। তিনি কীভাবে, কী উদ্দেশ্যে এবং কাদের জন্য এই টাকা ব্যবহার করতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। একই সময়ে, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অবৈধ আর্থিক লেনদেন রোধের প্রচেষ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
সৈদপুর বিমানবন্দরে আজ দুপুর ১২টায় বেলাল নামের একজন ব্যক্তিকে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা নিয়ে আটক করা হয়। নিলফামারী সুপারিনটেনডেন্ট শ্যাখ জাহিদুল ইসলাম জানান, আটকের পর বেলাল অসুস্থ বোধ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হয়।
মাহদি আমিন এই ধরণের ঘটনার ওপর নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে দৃষ্টিপাত করে, এবং এটিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দলের দেউলিয়া অবস্থা ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন কাজগুলো নির্বাচনী ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ণ করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামির ন্যায়বিচার ও দুর্নীতি বিরোধী রেটোরিকের সঙ্গে ভোট কেনার জন্য বড় অঙ্কের টাকা ব্যবহার করার অভিযোগের মধ্যে স্পষ্ট বৈরিতা রয়েছে। এই ধরনের কার্যকলাপের ফলে জনগণের বিশ্বাস ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে।
মাহদি আমিনের মতে, ঢাকা-১৫ (যেখানে জামায়াতের আমীরের নির্বাচনী এলাকা) এবং কুমিল্লা, নোয়াখালী, খুলনা সহ অন্যান্য অঞ্চলেও অনুরূপ অবৈধ আর্থিক লেনদেনের ঘটনা দেখা গেছে। তিনি এসবকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে হুমকির মুখে ফেলা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিএনপি’র এই মন্তব্যের পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নির্বাচন পরিবেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সকল দলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



