ওয়াটারলু, অন্টারিওতে অবস্থিত আপসাইড রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় ও হালকা ওজনের সৌরশক্তি চালিত রোবটের মাধ্যমে কর্ন ফসলের জন্য সঠিক পরিমাণে সার সরবরাহ করে, ফলে বর্জ্য কমে এবং পরিবেশের ওপর চাপ হ্রাস পায়।
কোম্পানির দুই প্রতিষ্ঠাতা ২০২৩ সালে একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হন, যখন দুজনই জলবায়ু ও কৃষিতে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনো উদ্যোগ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন।
সাম ডুগান ছোটবেলা থেকেই রোবট নির্মাণে আগ্রহী ছিলেন, আর জানা টিয়ান ইউনিলিভারের খাবার বিভাগে রসায়ন প্রকৌশলী হিসেবে বহু বছর কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এই পেশাগত পটভূমি দুজনকে প্রযুক্তি ও কৃষি সংযোগের সেতু গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত করে তুলেছিল।
উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল সার ব্যবহার থেকে সৃষ্ট অপচয় কমানো, যা তাদের দুজনের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত। রোবটের মাধ্যমে ফসলের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করা হলে, অতিরিক্ত সার জমিতে জমা না হয়ে পরিবেশ দূষণ কমাতে সহায়তা করে।
রোবটগুলো হালকা গঠন এবং সম্পূর্ণ সৌরশক্তি দ্বারা চালিত, ফলে ফিল্ডে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের প্রয়োজন হয় না। প্রতিটি ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন সিস্টেম যুক্ত, যা ফসলের সারি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট স্থানে থেমে সঠিক পরিমাণে সার ছড়িয়ে দেয়।
রোবটের সফটওয়্যার নিজস্ব অ্যালগরিদম ব্যবহার করে আবহাওয়া, মাটির আর্দ্রতা এবং পিএইচ মানের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফসলের সুনির্দিষ্ট চাহিদা নির্ধারণ করে। এই ডেটা ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে সারের অতিরিক্ত ব্যবহার এড়ানো সম্ভব হয়।
প্রাথমিকভাবে রোবটগুলো কর্ন ফসলের জন্য উন্নয়ন করা হয়, কারণ কর্ন বিশ্বের অন্যতম সার-নির্ভর ফসল। উচ্চ সার প্রয়োজনীয়তার কারণে এখানে অপচয় বেশি, তাই এই ফসলকে লক্ষ্যবস্তু করে প্রযুক্তি প্রয়োগ করা অধিক কার্যকরী বলে বিবেচিত হয়।
কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে দেখা যায়, তারা এমন সমাধানের জন্য প্রস্তুত যা সারের খরচ কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে। ফিল্ডে পরীক্ষার সময় কৃষকরা রোবটের কার্যকারিতা এবং সাশ্রয়ী দিককে প্রশংসা করেন।
প্রচলিত পদ্ধতিতে ফসলের মোট সারের মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশই শোষিত হয়, বাকি অংশ মাটিতে হারিয়ে যায় বা পরিবেশে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে। অধিকাংশ কৃষক একবারের বড় পরিমাণে সার প্রয়োগ করেন, যা ফসলের পুরো ঋতু জুড়ে সমানভাবে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে ব্যর্থ হয়।
এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ২০২৪ সালে আপসাইড রোবোটিক্স আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে ফিল্ডে কাজ শুরু করে। প্রতিষ্ঠাতা দল একটি ক্যাম্পার ট্রেইলার কিনে, কানাডার বিভিন্ন কর্ন ফিল্ডে ঘুরে ঘুরে রোবটের পরীক্ষা চালায়।
প্রতিটি রাত তারা ফসলের পাশে ক্যাম্পার ট্রেইলারে বিশ্রাম নেয়, যাতে রোবটের পারফরম্যান্স রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা যায়। এই সরল জীবনধারা তাদের প্রযুক্তি উন্নয়নে দ্রুত অগ্রগতি এনে দেয়।
সৌরশক্তি চালিত স্বয়ংক্রিয় রোবটের মাধ্যমে সার ব্যবহার কমিয়ে, আপসাইড রোবোটিক্স কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্লোবাল উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি অন্যান্য ফসলেও প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



