লস এঞ্জেলেসে শুটিং শেষ করে শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ‘Crime 101’ বড় পর্দায় প্রকাশিত হয়েছে। বার্ট লেটনের পরিচালনায় তৈরি এই অপরাধ থ্রিলারটি ডন উইনস্লোর উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এবং রেটিং R। ছবির সময়কাল দুই ঘণ্টা বিশের বেশি, এবং এতে ক্রিস হেমসওর্থ, হ্যালি বেরি, মার্ক রাফালো, ব্যারি কিগান, নিক নল্ট, মনিকা বারবারো সহ একাধিক পরিচিত মুখের উপস্থিতি রয়েছে।
ফিল্মের মূল চরিত্র ডেভিস, হেমসওর্থের অভিনয়ে, একজন শৈল্পিক জুয়েল চোর, যিনি নিজের নৈতিক কোড মেনে চলে। হ্যালি বেরি শারন নামে উচ্চমানের বীমা এজেন্টের ভূমিকায়, যিনি কাজের স্বীকৃতির অভাবে ক্রমশ হতাশা অনুভব করেন। মার্ক রাফালো লু চরিত্রে, লস এঞ্জেলেসের অভিজ্ঞ গোয়েন্দা, যিনি বিভাগের ফলাফল-চালিত মনোভাবের মাঝেও ন্যায়বিচার রক্ষার চেষ্টা করেন।
ব্যারি কিগান রঙিন চুলের, ডার্ট বাইক চালিয়ে অপরাধে লিপ্ত এক তরুণের ভূমিকায়, যার হিংস্রতা হঠাৎ করে প্রকাশ পায়। নিক নল্টের চরিত্র হলেন অপরাধ জগতের ফেন্সার, যিনি ক্লায়েন্টদের বিশ্বাসঘাতকতা করতে দ্বিধা করেন না। মনিকা বারবারো, অস্কার মনোনীত অভিনেত্রী, ডেভিসের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রাথমিক নারী চরিত্রে দেখা যায়। কোরি হকিন্স, জেনিফার জেসন লি এবং নিক নল্টের মতো অন্যান্য পরিচিত মুখও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
‘Crime 101’ এর গল্পের গঠন জটিল ও বহুমাত্রিক, যেখানে একাধিক লাইন একে অপরের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে যুক্ত হয়। লেটনের লক্ষ্য ছিল একটি বিশাল সিনেমাটিক ট্যাপেস্ট্রি তৈরি করা, যেখানে লস এঞ্জেলেসের বাস্তব দৃশ্যাবলী ও উচ্চমানের প্রোডাকশন ডিজাইন একত্রিত হয়েছে। ছবির ভিজ্যুয়াল দিক, সাউন্ড ও এডিটিং সবই পেশাদার মানের, যা দর্শকের চোখে একটি চকচকে প্যাকেজিং হিসেবে প্রকাশ পায়।
তবে, এই সব প্রযুক্তিগত ও নান্দনিক সাফল্যের পরেও গল্পের প্রবাহে কিছুটা অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। জটিল প্লটের প্রচেষ্টা কখনো কখনো অতিরিক্ত চাপের মতো অনুভূত হয়, ফলে দৃশ্যগুলোর মধ্যে কৃত্রিম সংযোগের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চরিত্রগুলোর গভীরতা ও প্রেরণা যথাযথভাবে গড়ে তোলার বদলে, কিছু মুহূর্তে তারা কেবলমাত্র শোয়ের সাজসজ্জা হিসেবে দেখা যায়।
সমালোচকরা ছবির উৎপাদন মানকে প্রশংসা করলেও, গল্পের পুনরাবৃত্তি ও পরিচিত থিমের ব্যবহারকে অতিরিক্ত পরিচিতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ‘Crime 101’ একটি সু-নির্মিত চলচ্চিত্র, তবে তার কাহিনীর মৌলিকতা ও সৃজনশীলতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। দর্শকেরা যদি উচ্চমানের ভিজ্যুয়াল ও শক্তিশালী কাস্টের প্রত্যাশা করেন, তবে গল্পের সামগ্রিক প্রভাব কিছুটা কম হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ‘Crime 101’ একটি পরিশীলিত প্রোডাকশন, যেখানে হেমসওর্থ, বেরি ও রাফালো’র পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য। তবে ছবির কাঠামো ও বর্ণনায় অতিরিক্ত প্রচেষ্টা দেখা যায়, যা শেষ পর্যন্ত পুরো চলচ্চিত্রকে কিছুটা অপ্রতুল করে তুলেছে। অপরাধ থ্রিলার প্রেমিকদের জন্য এটি একটি ভিজ্যুয়ালি আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা হতে পারে, তবে নতুনত্বের সন্ধানে থাকা দর্শকদের জন্য তা ততটা তৃপ্তিকর নাও হতে পারে।
ফিল্মের রিলিজের পর, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্রিত হয়েছে। কেউ কেউ ছবির চমৎকার শুটিং লোকেশন ও কাস্টের পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করেন, আবার অন্যরা গল্পের অস্বাভাবিকতা ও পুনরাবৃত্তি নিয়ে মন্তব্য করেন। শেষ পর্যন্ত, ‘Crime 101’ একটি উচ্চমানের উৎপাদন, তবে তার বর্ণনামূলক দিকের সীমাবদ্ধতা তাকে সম্পূর্ণভাবে সফলতা থেকে দূরে রাখে।



