ইল্কার চাটাকের নতুন চলচ্চিত্র ‘Yellow Letters’ (জার্মানিতে ‘Gelbe Briefe’) বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (Berlinale) প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামে প্রথম প্রদর্শিত হবে। চলচ্চিত্রটি টার্কি শিল্পী দেরি ও আজিজের দম্পতি এবং তাদের কন্যা এজগির জীবনের উপর ভিত্তি করে, যারা অ্যানকারার নাট্যপ্রদর্শনীতে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর রাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠে। এই ঘটনার ফলে তারা হলুদ চিঠি পায়, চাকরি ও বাড়ি হারায় এবং ইস্তাম্বুলে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হয়। বর্ণনা অনুসারে, দম্পতি ইস্তাম্বুলে আজিজের মায়ের বাড়িতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করে, আজিজ অস্থায়ী কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং দেরি আর্থিক স্বনির্ভরতা খোঁজে।
চলচ্চিত্রের মূল কাহিনী দেরি ও আজিজের নাট্যপ্রদর্শনী প্রিমিয়ারে ঘটে যাওয়া একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর তাদের জীবনের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে। সরকারী হস্তক্ষেপের ফলে তারা ‘হলুদ চিঠি’ পায়, যা তাদের চাকরি ও বাসস্থান থেকে বঞ্চিত করে। দম্পতি ইস্তাম্বুলে আশ্রয় নেয়, যেখানে আজিজের মা তাদের স্বাগত জানায়। আর্থিক সংকটের মুখে আজিজ বিভিন্ন অস্থায়ী কাজ গ্রহণ করে, আর দেরি স্বাধীন আয়ের পথ খুঁজতে চেষ্টা করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের কন্যা এজগির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে এবং পরিবারকে একত্রে রাখতে মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
ইল্কার চাটাক পূর্বে ‘The Teacher’s Lounge’, ‘I Was, I Am, I Will Be’ ইত্যাদি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। ‘Yellow Letters’ এর চিত্রনাট্য তিনি নিজেরই কন্যা আয়দা মেরিয়েম চাটাক এবং এনিস কোস্টেপেনের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেছেন। দম্পতির গল্পকে টার্কি-জার্মান সীমান্তে স্থাপন করে, চাটাক রাজনৈতিক দমন ও শিল্পের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনার নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করতে চেয়েছেন।
চলচ্চিত্রের প্রধান চরিত্রে তুর্কি অভিনেত্রী ওয়েজু নামাল এবং তানসু বিচের অভিনয় করেছেন, যারা দেরি ও আজিজের ভূমিকায় গভীর মানবিক সংবেদনশীলতা নিয়ে আসেন। লেয়লা স্মিরনা ক্যাবাস এবং ইপেক বিলগিনও সহায়ক চরিত্রে উপস্থিত, যা গল্পের জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে। অভিনেতাদের পারফরম্যান্সকে সমর্থন করে, চাটাকের পূর্বের কাজের সৃজনশীল দল পুনরায় একত্রিত হয়েছে।
চিত্রগ্রহণে জুডিথ কাউফম্যান ক্যামেরা পরিচালনা করেছেন, গেসা জ্যাগার সম্পাদনা কাজের দায়িত্বে ছিলেন, মারভিন মিলার সঙ্গীত রচনা করেছেন এবং জ্যাজি নেপার প্রোডাকশন ডিজাইন পরিচালনা করেছেন। এই দলগত সহযোগিতা চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল ও শোনার অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করেছে, যা বার্লিনের আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে।
‘Yellow Letters’ বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্বপ্রসারী প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হবে। উৎসবের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চলচ্চিত্রটি টার্কি-জার্মান সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্পের স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্বকে জোর দিয়ে উপস্থাপন করবে।
চাটাকের মতে, টার্কি গল্পকে জার্মান শহরে স্থানান্তর করা দর্শকদের জন্য পরিচিত পরিবেশের মাধ্যমে গল্পের গভীরতা বাড়ায়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে জার্মানির কিছু শহর টার্কি শহরের প্রতিচ্ছবি হিসেবে কাজ করে, যা দর্শকদেরকে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সীমানা অতিক্রমের অনুভূতি দেয়। এই পদ্ধতি গল্পের বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক প্রাসঙ্গিকতা উভয়ই বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে।
শিল্পের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক দমনবিরোধী সংগ্রামের বিষয়টি আজকের বিশ্বে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। চাটাকের কাজ এই দুই বিষয়কে একত্রিত করে, যা দর্শকদেরকে কেবল বিনোদন নয়, সামাজিক সচেতনতার দিকেও উদ্বুদ্ধ করে। ‘Yellow Letters’ বার্লিনের মঞ্চে এই বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে কিনা, তা সময়ই বলবে, তবে চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু ও নির্মাণের গুণমান ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
বিনোদন ও সংস্কৃতির জগতে এই নতুন চলচ্চিত্রটি টার্কি-জার্মান সম্পর্কের একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে, যেখানে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকটের সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতা মিশে রয়েছে। দর্শকরা আশা করতে পারেন একটি গভীর মানবিক গল্প, যা শিল্পের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সংগ্রামরত মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।



