প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বুধবার সন্ধ্যা সাতটায় জাতির সামনে এক সরাসরি ভাষণে ভোটারদেরকে ভোটের অধিকার ব্যবহার করতে এবং তা উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ১১ ফেব্রুয়ারি তারিখে দেশের সর্বত্র অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পূর্বে এই বার্তা প্রদান করেন, যা আগামীকাল, ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলবে।
উদ্দিন সিইসি উল্লেখ করেন যে ভোটদান শুধুমাত্র নাগরিকের অধিকার নয়, বরং একটি সামাজিক দায়িত্বও বটে। তিনি ভোটারদেরকে সচেতনভাবে এই দায়িত্ব পালন করতে এবং প্রত্যেকটি ভোটকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গর্বের সঙ্গে ব্যবহার করতে অনুরোধ করেন। তার মতে, ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণই দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে মূল ভূমিকা রাখবে।
বৈধ ভোটের ফলাফলকে স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিণতি হিসেবে গ্রহণের গুরুত্বও তিনি জোর দিয়ে বলেন। জয়-পরাজয়কে সহজে মেনে নেওয়া, রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের মধ্যে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা, এবং কোনো ধরনের উত্তেজনা না বাড়িয়ে ফলাফলকে সম্মান করা—এগুলোই সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি। এ প্রসঙ্গে তিনি সকল রাজনৈতিক দলের কাছে আহ্বান জানান যে তারা ভোটের পরিণতি স্বীকার করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষা করবে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে দেশব্যাপী ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা কর্মী, পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করবে, যাতে কোনো অনিয়ম বা হিংসা না ঘটে। এই প্রস্তুতি ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখবে।
সিইসি জনগণকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করতে এবং তাদের নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ভোটের দিন নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম মূল উপায়। এই সহযোগিতা ভোটের দিন কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্ভাবনা কমিয়ে আনবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সাথে অনুষ্ঠিত গণভোটের সময়সূচি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। ভোটদান প্রক্রিয়া একসাথে চলবে, ফলে নাগরিকরা একবারের মধ্যে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন এই সময়সূচি অনুসারে পুরো দেশ জুড়ে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের স্বাগত জানাবে।
বিপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোও শান্তিপূর্ণ ভোটের আহ্বান জানিয়ে সিইসির বার্তাকে সমর্থন করেছে। তারা ভোটের ফলাফলকে স্বীকার করে দেশের মঙ্গলের জন্য একসাথে কাজ করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। এ ধরনের সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি ভোটের দিন সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সরকার গঠন, নীতি নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে গণভোটের ফলাফল দেশের সংবিধানিক কাঠামোতে সম্ভাব্য পরিবর্তন আনতে পারে, যা দেশের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা আপডেট এবং ভোটপত্রের নিরাপদ বিতরণ নিশ্চিত করেছে। ভোটারদেরকে সময়মতো ভোটকেন্দ্র পৌঁছাতে এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সকল প্রান্তে প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায়, ভোটের দিন নাগরিকদের জন্য একটি মসৃণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সিইসি শেষ কথা হিসেবে ভোটারদেরকে তাদের অধিকার ব্যবহার করে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আহ্বান জানান। তিনি আশাবাদী যে ভোটাররা দায়িত্বশীলভাবে ভোট দেবেন এবং ফলাফলকে সম্মান করবেন, যাতে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি রক্ষা পায়।



