১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রথমবার জেন-জি ভোটারদের ভোটদান শুরু হবে, এবং ভোটকেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ও সেলফি তোলার ওপর নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞা তীব্র সমালোচনার পর প্রত্যাহার করা হয়েছে।
কমিশন প্রথমে ভোটকেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে, যাতে ভোটারদের মনোযোগ বিচ্যুতি ও সম্ভাব্য ভোটার হস্তক্ষেপ রোধ করা যায়। তবে নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র আপত্তি শোনার পর এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়।
নতুন নির্দেশে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবেন এবং ভোটের সময় সেলফি তোলার অনুমতি থাকবে, তবে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করতে কিছু মৌলিক শর্ত মেনে চলতে হবে।
এই নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯, যা দেশের সর্ববৃহৎ নির্বাচনী তালিকা গঠন করে। এই সংখ্যা পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫, এবং হিজড়া ভোটার ১,২২০।
প্রায় ৮ লক্ষ সরকারি কর্মী এই নির্বাচনে ভোটদান প্রক্রিয়া তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকবে, যা ভোটের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করবে।
সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বিভিন্ন স্তরে মোতায়েন করা হবে, যার মধ্যে পুলিশ, র্যাঙ্ক, এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা অন্তর্ভুক্ত।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবক দলগুলোও ভোটারদের তথ্য প্রদান ও সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত।
প্রাথমিকভাবে মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে যুক্তি ছিল যে, ভোটের সময় সামাজিক মিডিয়া ব্যবহার ভোটের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারে এবং অনিয়ন্ত্রিত ক্যামেরা রেকর্ডিং ভোটারদের গোপনীয়তা হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, নাগরিক অধিকার সংস্থা ও তরুণ ভোটার গোষ্ঠী এই নিষেধাজ্ঞাকে ভোটার স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখেছে এবং ভোটের সময় তথ্যপ্রাপ্তি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য মোবাইল ফোনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
এই বিতর্কের পর নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় মোবাইল ফোন ব্যবহার অনুমোদন করে, তবে ভোটের সময় ক্যামেরা ব্যবহার ও সেলফি তোলার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে, যাতে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা পায়।
প্রথমবার জেন-জি ভোটারদের বৃহৎ অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন কৌশল গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করবে, কারণ এই প্রজন্ম সামাজিক মিডিয়া ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বেশি সক্রিয়।
পার্থক্যপূর্ণ ভোটার প্রোফাইলের ভিত্তিতে দলগুলো তরুণদের আকৃষ্ট করতে নীতি, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি জোরদার করতে পারে, যা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, মোবাইল ফোন ও সেলফি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত ভোটারদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াবে, একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলবে।



