ইলেকশন কমিশনের সিনিয়র সেক্রেটারি আকতার আহমেদ আজ ঢাকা, আগারগাঁও-এ কমিশনের সদর দফতরে মিডিয়ার সামনে বলেছেন, তাকে একটি প্রতিবেদনে নগদ টাকা বহন সংক্রান্ত মন্তব্যের জন্য ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি কখনোই টাকার পরিমাণ নির্ধারণের কোনো অনুমতি বা ক্ষমতা দাবি করেননি। এই বক্তব্যটি বিকল্প তথ্যের প্রসঙ্গে প্রকাশিত হয়, যেখানে একটি জামায়াত-এ-ইসলামি নেতার সাইদপুর বিমানবন্দরে নগদ জব্দের সঙ্গে তার নাম যুক্ত করা হয়েছিল।
আকতার আহমেদ স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কখনোই “টাকা পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে বহন করা ঠিক আছে” এমন কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার এমন কোনো ক্ষমতা নেই এবং তিনি এমন কথা বলার কোনো সুযোগও পাননি। তার এই অস্বীকারের পেছনে সাম্প্রতিক মিডিয়া রিপোর্টের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে তাকে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতার নগদ জব্দের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়, জামায়াত-এ-ইসলামি নেতার সঙ্গে বিশাল পরিমাণ নগদ টাকা সাইদপুর বিমানবন্দরে জব্দ করা হয়েছিল এবং আকতার আহমেদকে তা অনুমোদনকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। আকতার আহমেদ এই রিপোর্টকে “অবাঞ্ছিত” এবং “ভুল তথ্য” বলে খণ্ডন করেন, এবং উল্লেখ করেন যে এমন মিথ্যা তথ্য নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তিনি মিডিয়াকে অনুরোধ করেন, ভবিষ্যতে এমন ভুল উদ্ধৃতি না দিতে।
আকতার আহমেদ বলেন, তার একমাত্র মন্তব্য ছিল যে, যে কর্তৃপক্ষ টাকা জব্দ করেছে, সেটি তার উৎস, পরিমাণ এবং উদ্দেশ্য নির্ধারণের অধিকার রাখে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই মন্তব্যই একমাত্র ছিল এবং অন্য কোনো বক্তব্য তিনি দেননি। যদি এই কথাটিকেও ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়, তা তার প্রতি অসম্মানজনক এবং তিনি এ বিষয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তিনি তার রাগ প্রকাশ করে বলেন, মিসকোটা হওয়া তার জন্য অপমানজনক এবং তিনি মিডিয়াকে অনুরোধ করেন, এমন ভুল তথ্য ছড়িয়ে না দেওয়ার জন্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সুষ্ঠু হওয়ার পথে, এবং মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে জনমতকে বিভ্রান্ত করা হলে তা দুর্ভাগ্যজনক হবে।
দিনের শুরুর দিকে, জামায়াত-এ-ইসলামি ও ১১ পার্টি জোটের নেতাদের একটি দল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তারা বিভিন্ন কেন্দ্রের সমস্যার এবং তাদের কর্মীদের সঙ্গে ঘটিত ঘটনাগুলোর অভিযোগ তুলে ধরে। আকতার আহমেদ তাদেরকে নির্বাচনী তদন্ত কমিটি, রিটার্নিং অফিসার এবং স্থানীয় পুলিশকে জানাতে পরামর্শ দেন। তিনি জানান, অভিযোগগুলো ইতিমধ্যে তাদের দপ্তরে পৌঁছেছে এবং কমিশন যথাসাধ্য সহায়তা করবে।
আকতার আহমেদ যখন প্রার্থীর নগদ বহনের আইনি ব্যাখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি বলেন, তার দায়িত্বের মধ্যে এমন কোনো আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া নেই। তিনি উল্লেখ করেন, টাকা জব্দকারী কর্তৃপক্ষই এই বিষয়ে স্পষ্টতা দেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি এমন কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন না, কারণ তা তার কাজের সীমার বাইরে।
তিনি সাংবাদিকদেরকে অনুরোধ করেন, তার থেকে আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া বন্ধ করতে। তিনি বলেন, এটি তার প্রতি অন্যায় হবে এবং মিথ্যা তথ্যের সংস্কৃতিকে বাড়িয়ে তুলবে। তিনি মিডিয়াকে আহ্বান করেন, তথ্যের সঠিকতা বজায় রাখতে এবং অতিরিক্ত অনুমান না করে রিপোর্ট করতে।
শেষে, আকতার আহমেদ সকল রাজনৈতিক দল, মিডিয়া এবং নাগরিককে নির্বাচনকে ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ রাখতে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছতা এবং ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্কতা প্রকাশ করেন।



