ইউইএফএ এবং রিয়াল মাদ্রিদ, পাশাপাশি ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাব সমিতি, একসাথে একটি নীতি-চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার ফলে ইউরোপীয় সুপার লিগের সব আইনগত বিরোধ শেষ হয়ে গেছে এবং প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়েছে। এই ঘোষণাটি ইউইএফএর বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত বার্ষিক কংগ্রেসের এক দিন আগে প্রকাশিত হয়।
চুক্তিতে উভয় পক্ষের সম্মতি প্রকাশ করা হয়েছে যে ভবিষ্যৎ ক্লাব ফুটবলে ক্রীড়া মেধা, দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক টেকসইতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভক্তদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা হবে। এই নীতিগুলোকে ভিত্তি করে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের রক্ষা করা হবে বলে উভয় সংস্থা জোর দিয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুসারে, সুপার লিগের সঙ্গে যুক্ত কোনো আইনগত দাবি এখন বন্ধ হবে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বাকি থাকা সব বিরোধ সমাধান হবে। ইউইএফএর বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই নীতি-চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব মামলা বন্ধ হয়ে যাবে।
ইউইএফএর এই ঘোষণাটি বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের ঠিক এক দিন আগে প্রকাশিত হওয়ায়, কংগ্রেসে উপস্থিত সকল সদস্য এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। সংস্থার মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে, এই চুক্তি ক্লাব ফুটবলের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউরোপীয় সুপার লিগের ধারণা প্রথমবার ২০২১ সালে প্রকাশিত হয়, যেখানে ১২টি শীর্ষ ক্লাব একত্রে একটি স্বতন্ত্র লিগ গঠন করার পরিকল্পনা করেছিল। তবে লঞ্চের কয়েক দিন পরই ব্যাপক বিরোধ এবং ভক্তদের প্রতিক্রিয়ার কারণে প্রকল্পটি ভেঙে পড়ে।
সেই সময়ে বেশিরভাগ ক্লাব তাদের অংশ ত্যাগ করে, তবে রিয়াল মাদ্রিদ একমাত্র ক্লাব হিসেবে প্রকল্পকে চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। এরপর থেকে রিয়াল মাদ্রিদ সুপার লিগের পুনরায় চালু করার জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যায়।
প্রকল্পের ব্যর্থতার পর রিয়াল মাদ্রিদ ইউইএফএর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে, যেখানে তারা ইউইএফএর হস্তক্ষেপের ফলে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতির জন্য বড় পরিমাণের ক্ষতিপূরণ চেয়েছিল। এই দাবিটি প্রকাশের পর থেকে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছিল।
প্রায় তিন মাস অর্ধেক সময়ের মধ্যে, উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে এই নীতি-চুক্তি সম্পন্ন হয়। ফলে রিয়াল মাদ্রিদের দাবিকৃত ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য আইনি বিষয় এখন সমাধান হয়েছে।
এই চুক্তি ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের জন্য একটি নতুন সূচনা নির্দেশ করে, যেখানে ক্লাবগুলোকে আর্থিক স্বচ্ছতা এবং ভক্ত-কেন্দ্রিক নীতির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে, প্রযুক্তি ব্যবহার করে ম্যাচের অভিজ্ঞতা উন্নত করার পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইউইএফএর এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে কোনো ক্লাব আবার এমন বড় স্কেলের বিচ্ছিন্ন লিগ গঠনের চেষ্টা করবে না, এবং বিদ্যমান লিগের কাঠামোই প্রধান থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ইউইএফএ ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে স্বাক্ষরিত নীতি-চুক্তি ইউরোপীয় সুপার লিগের সব আইনগত ও কাঠামোগত সমস্যাকে সমাধান করেছে, এবং ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও ভক্তদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।



