20 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী নুরুল হক গুলিবিদ্ধের গুজব প্রত্যাখ্যান

পটুয়াখালী-৩ আসনের প্রার্থী নুরুল হক গুলিবিদ্ধের গুজব প্রত্যাখ্যান

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নুরুল হক গুলিবিদ্ধের খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও, তিনি নিজে নিশ্চিত করে বলেছেন যে তিনি কোনো গুলিবিদ্ধ ঘটনার শিকার হননি এবং সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যে আছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজধানীর হাসপাতালে ভর্তি থাকার দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন। বর্তমান সময়ে তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় উপস্থিত আছেন। এই গুজবটি গত সপ্তাহের শেষের দিকে সামাজিক নেটওয়ার্কে ব্যাপকভাবে শেয়ার হয়।

গুলিবিদ্ধের গুজব প্রথমবার সামাজিক প্ল্যাটফর্মে দেখা দেয়, যেখানে নুরুল হককে গুলি করে আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে দাবি করা হয়। এই তথ্যের ফলে তার কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত প্রবাহিত হয়। তবে প্রার্থী নিজে এই তথ্য দেখার পর তা অবৈধ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব বলে খণ্ডন করেন। সমর্থকরা দ্রুত নুরুল হকের অফিসে জড়ো হয়ে তথ্যের সত্যতা যাচাই করার চেষ্টা করেন।

নুরুল হক গুজবের উৎপত্তি সম্পর্কে বলেন, এটি তার প্রতিদ্বন্দ্বী দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের অনুগামীদের দ্বারা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি যুক্তি দেন যে গুলিবিদ্ধের মিথ্যা খবরের মূল উদ্দেশ্য তার সমর্থকদের মনোবল কমিয়ে তোলা এবং তৃণমূল ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা। এ ধরনের প্রচারণা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। এই ধরনের গুজব তার নির্বাচনী প্রচারণার পরিকল্পনাকে ব্যাহত করতে পারে।

নুরুল হক আরও জানান, তার বিরুদ্ধে হামলা ও হিংসা চালিয়ে যাচ্ছেন হাসান মামুনের সহায়ক দল। তিনি উল্লেখ করেন, মামুনের স্ত্রী স্থানীয় প্রশাসনে একটি সরকারি পদে অধিষ্ঠিত থাকায় তার প্রভাব বাড়িয়ে তুলছে। ফলে নুরুল হকের অভিযোগের পরেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তির মাধ্যমে তথ্যের বিকৃতি ও দমন সহজতর হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গতকাল নুরুল হক জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তবে তিনি জানান, এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দিলেও, বাস্তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। অফিসে জমা দেওয়া অভিযোগের পরেও কোনো লিখিত উত্তর পাওয়া যায়নি।

নুরুল হকের নির্বাচনী অফিসে গত রাতের মধ্যে অগ্নিকাণ্ড ঘটার খবরও প্রকাশ পায়। তার অফিসে আগুন লাগার ফলে সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। এই ঘটনা তার সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়ে তুলেছে। আগুনের ফলে অফিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস হয়েছে।

একই সময়ে নুরুল হকের বোনের বাড়ির সামনে উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য করা হয়, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্যের ফলে এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। নুরুল হক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের ঘটনা ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নুরুল হক সতর্ক করেন, গুজব ও হিংসা যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি হ্রাস পেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি তদারকি দাবি করা হয়েছে। বহু ভোটার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, কিছুজন ভোটদান থেকে বিরত থাকার কথা ভাবছেন।

নুরুল হক পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্টকে অনুরোধ করেন, গুজবের উৎস সনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তিনি দাবি করেন, গুলিবিদ্ধের মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেওয়া দলীয় গঠনকে দুর্বল করার এক কৌশল। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করা জরুরি। গুজব ছড়ানো এবং হিংসা উস্কে দেওয়া আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

নুরুল হকের মতে, স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা তার অভিযোগের প্রতি যথাযথ সাড়া দিচ্ছেন না, যদিও তারা ব্যবস্থা নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধীরগতি তার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হতাশা বাড়িয়ে তুলছে। ফলে নির্বাচনী পরিবেশে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধীরগতি নির্বাচনী সময়সূচি অনুসারে সমস্যার সমাধানকে আরও জটিল করে তুলছে।

নুরুল হক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা আহ্বান করেন। তিনি বলেন, গুজব ও হিংসা না থাকলে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুগম হবে। এ জন্য সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। সব দলকে একত্রে কাজ করে গুজবের শিকড় খুঁজে বের করা উচিত।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পটুয়াখালী-৩ আসনের ভোটাররা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। স্থানীয় মিডিয়া জানায়, কিছু ভোটার গুলিবিদ্ধের গুজবের ফলে ভোটদান থেকে বিরত থাকতে পারেন। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুজবের বিস্তার রোধ করা জরুরি। স্থানীয় সমাজসেবক ও ধর্মীয় নেতারাও শান্তি বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে নুরুল হক আশাবাদী যে, যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে গুজবের মূল উৎস প্রকাশ পাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, গণতন্ত্রের সঠিক কাজের জন্য সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য। নির্বাচন কমিশন একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

আগামী সপ্তাহে পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নুরুল হক এবং তার দল এই সময়ে ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে এবং গুজবের প্রভাব কমাতে বিভিন্ন প্রচারমূলক কার্যক্রম চালাবে। শেষ পর্যন্ত, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা সকলের যৌথ দায়িত্ব। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments