সুইজারল্যান্ডের ক্র্যান্স-মন্টানা শহরে নতুন বছরের আগুনে ৪১ জনের মৃত্যু এবং ১১৫ জনের আঘাতের পর, বার মালিক জ্যাক্স মোরেটি এবং তার স্ত্রী জেসিকা মোরেটি বুধবার সিয়নে শোনানিতে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন।
শোনানিতে জ্যাক্স মোরেটি তার স্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত হন, এবং তার আইনজীবী এই সেশনের গুরুত্বকে “সত্যের মুহূর্ত” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জেসিকা মোরেটি বৃহস্পতিবার একই আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়বেন।
একজন মা, লাতিশিয়া ব্রোডার-সিট্র, যিনি ১৬ বছর বয়সী আর্থারকে হারিয়েছেন, টেলিভিশনে জানান যে তিনি পুরো সত্য জানতে চান এবং কোনো মিথ্যা না থাকুক। তিনি সকলকে দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শ তার জন্য কোনো প্রভাব রাখে না।
জ্যাক্স ও জেসিকা মোরেটি অপরাধমূলক তদন্তের অধীনে আছেন, যেখানে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ, শারীরিক ক্ষতি এবং অবহেলার মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। দুজনেই জেলখানায় রাখা হয়নি; জ্যাক্সকে গত মাসে জামানত দিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
মোরেটি দম্পতির আইনজীবী উল্লেখ করেছেন যে, দুজনেই শুরুর থেকেই তাদের দায়িত্ব স্বীকার করে এবং ন্যায়বিচার থেকে পিছু হটতে চান না। তিনি বলেন, সম্পত্তির মালিক ও তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তাদের ওপর দায়িত্ব আরোপিত, তবে তদন্তের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত কে দায়ী তা নির্ধারিত হবে।
আগুনের পর থেকে বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কর্মচারী নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি তুলে ধরেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, অগ্নি নিরাপত্তা মানদণ্ডের অভাব ছিল এবং জরুরি পরিকল্পনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, শ্যাম্পেনের বোতলে রাখা ঝলমলে মোমবাতি ছাদের উপরে অগ্নি সৃষ্টির মূল কারণ হতে পারে। এই ধরনের সাজসজ্জা স্থানীয় নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন করে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অধিকন্তু, ভিডিও রেকর্ডে দেখা যায় একজন কর্মচারী স্নুকার কিউ ব্যবহার করে শব্দ-প্রতিরোধী ফোমকে ছাদে পুনরায় স্থাপন করছেন, যা আগুনের কয়েক সপ্তাহ আগে ঘটেছিল। এই কাজটি নিরাপত্তা মানদণ্ডের বিরোধী বলে সমালোচিত হয়েছে।
আগুনের স্থানে ২০১৯ সাল থেকে কোনো অগ্নি পরিদর্শন করা হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবহেলা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং তা তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্র্যান্স-মন্টানা টাউন হলের প্রাক্তন নিরাপত্তা কর্মকর্তা শোনানিতে জানান যে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিষ্ঠানের বন্ধের নির্দেশনা দেয়নি, যদিও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের তথ্য ছিল। এই বিষয়টি তদন্তে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
সামগ্রিকভাবে, শোনানি এবং চলমান তদন্তের মাধ্যমে দায়িত্বের সঠিক সীমা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। আদালত ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সকল প্রমাণ সংগ্রহ করে শেষ পর্যন্ত দায়ী ব্যক্তিকে নির্ধারণের লক্ষ্য রাখবে।



