দ্বিতীয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ঠিক এক দিন আগে, ঢাকা মিরপুরের শাহীদ স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের ভিতরে অননুমোদিতভাবে প্রবেশের অভিযোগে জামাতের দুই কর্মীকে দুই বছরের কঠোর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
দণ্ড প্রদানকারী ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক, যিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতে মামলাটি শোনার পর রায় দেন।
দোষী দুইজন হলেন ৩২ বছর বয়সী মেহেদি হাসান খাদেম এবং ২৩ বছর বয়সী রাইহান হোসেন, যাদের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্রে ‘অবৈধভাবে প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তার’ করার অভিযোগ আনা হয়।
মহাসচিবের নির্দেশে পরিচালিত তদন্তে দুইজনের কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে, যা প্রমাণ সংগ্রহের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
কাফরুল থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেনের মতে, মেহেদি হাসান খাদেম ও রাইহান হোসেন কেন্দ্রের পোলিং অফিসার সুমনা ইসলামের সহায়তায় ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে ভোটারদের উপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।
পোলিং অফিসার সুমনা ইসলামকে এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে এবং তার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তৎক্ষণাৎ বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডের শর্তে দুইজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
অপরাধের অর্থদণ্ড অপ্রদানে অতিরিক্ত পনেরো দিন কারাদণ্ড আরোপের বিধানও প্রয়োগ করা হয়েছে।
মোবাইল আদালতের রায়ের ভিত্তিতে, দোষী পক্ষের কাছে রায়ের ঘোষণার পর ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিলের অধিকার রয়েছে, যা তারা ব্যবহার করলে উচ্চতর আদালতে মামলাটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।
এই রায়ের পর, বাংলাদেশ পুলিশ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত তদারকি চালু করেছে এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনরায় মূল্যায়ন করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা কর্মী ও পোলিং অফিসারদের ওপর কঠোর তদারকি বজায় রাখতে নির্দেশ জারি করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা রোধ করা যায়।
এই রায়ের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার গুরুত্ব পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের শাসন মেনে চলতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যতে যদি কোনো আপিল দাখিল করা হয়, তবে তা উচ্চতর আদালতে শোনার পর চূড়ান্ত রায় নির্ধারিত হবে।
এই ঘটনার পর, জামাতের অন্যান্য কর্মীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং কোনো অনুরূপ কার্যকলাপের প্রতিরোধে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা হচ্ছে।



