সিরাজগঞ্জ-২ আসনের কামারখন্দ উপজেলায় রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের চৌবাড়ি এলাকায় বুধবার দুপুরে জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে নগদ ও নির্বাচনী সামগ্রী নিয়ে তর্কে চারজনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের সঙ্গে প্রায় দুই লাখ টাকা, জামায়াত-এ-ইসলামি লোগোযুক্ত টি-শার্ট ও ব্যাজ পাওয়া যায়। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাদের মুক্ত করে দেয়।
ঘটনার সময় আশেপাশে কিছু লোকজন জমায়েত হয় এবং সংবাদে জানার পর নির্বাচনী আচরণবিধি তদারকি করার দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অটোরিকশা দিয়ে গিয়ে বিএনপি সমর্থকরা জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থক চারজনকে আটক করে এবং ৭১ হাজার টাকা সহ একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে। ব্যাগে জামায়াত-এ-ইসলামি নামের টি-শার্ট ও কিছু ব্যাজ ছিল।
বিএনপি সমর্থকরা দাবি করেন, তারা ভোট কেনার জন্য সংগ্রহ করা ৭১ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে এবং তা অপরাধমূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। অন্যদিকে জামায়াত-এ-ইসলামি সমর্থকরা বলেন, তাদের থেকে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা পোলিং এজেন্টদের খরচ ও নির্বাচনী সামগ্রী কেনার জন্য নেওয়া হয়েছিল। তারা উল্লেখ করেন, টাকার সঙ্গে টি-শার্ট ও ব্যাজ তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা ব্যবহার করার জন্য ছিল এবং পোলিং এজেন্টের ফরমও তাদের হাতে ছিল।
আব্দুল্লাহ আল মামুন উল্লেখ করেন, টাকার পরিমাণে গড়মিল এবং উভয় পক্ষের বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় বিষয়টি জুডিশিয়াল কমিটিতে পাঠিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং আপাতত আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-২ (কামারখন্দ) আসনে জামায়াত-এ-ইসলামি মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম জানান, তিনটি কেন্দ্রের পোলিং এজেন্টদের খরচ ও নির্বাচনী সামগ্রী সরবরাহের জন্য তারা নগদ ও সামগ্রী নিয়ে পথে ছিলেন। পথে বিএনপি সমর্থকরা তাদের আটক করে এবং টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
শহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ছিনতাইয়ের মামলা দায়ের করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, পোলিং এজেন্টদের ফরম ও অন্যান্য নথিপত্রও তাদের হাতে ছিল, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হতো।
এই ঘটনার ফলে সিরাজগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। উভয় দলের সমর্থকরা নিজেদের দাবিকে সঠিক প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে, ফলে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তে বাধ্য করা হয়েছে।
অধিকন্তু, জুডিশিয়াল কমিটির তদন্তের ফলাফল নির্বাচনী সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদি তদন্তে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেওয়া হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী সংঘর্ষের প্রতিরোধে সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, সিরাজগঞ্জ-২-এ জামায়াত-এ-ইসলামি ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে নগদ ও সামগ্রী নিয়ে সংঘর্ষ ঘটেছে, উভয় পক্ষের দাবিতে পার্থক্য রয়েছে এবং বিষয়টি জুডিশিয়াল কমিটিতে পাঠিয়ে তদন্তের অধীনে রাখা হয়েছে। ঘটনাটির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন প্রত্যাশিত।



