রংগামাটি জেলার দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতে জাতীয় নির্বাচনের সময় র্যাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) হেলিকপ্টার চালু করা হবে, এ বিষয়ে র্যাব কোম্পানি কমান্ডার মোঃ সাইফুর রহমান আজ দুপুরে রংগামাটি সরকারি কলেজের মাঠে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, হেলিকপ্টারগুলো বিশেষ চাহিদা মেটাতে এবং হিলি এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যবহার করা হবে।
কম্যান্ডার সাইফুর রহমানের মতে, র্যাবের কর্মী ও গোয়েন্দা দল উভয়ই সমন্বিতভাবে কাজ করবে, যাতে সব প্রাপ্য এলাকায় দ্রুত পৌঁছানো যায়। হেলিকপ্টারগুলোকে ভিত্তি করে গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিরাপত্তা দলগুলোকে হেলিকপ্টার সমর্থন দিয়ে গাছের ছায়া, নদীর তীর এবং পাহাড়ি গ্রামগুলোতে নজরদারি করা হবে।
বক্তব্যের সময় তিনি জানান, র্যাবের একটি বিশেষ প্যাট্রোল ইউনিট ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে। এই ইউনিটের কাজ হল ভোটারদের যেকোনো নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত হেলিকপ্টার দিয়ে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি কোনো ভোটার নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভোট দিতে না পারেন, তবে র্যাব সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে তাদের ভোটের সুযোগ নিশ্চিত করতে।
কম্যান্ডার আরও উল্লেখ করেন, হেলিকপ্টার চালু করার পাশাপাশি র্যাবের সব কার্যক্রম নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলবে। ভোটদান কেন্দ্রের বাইরে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করে, আইনগত সীমার মধ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। এই নীতি অনুসরণ করে দলটি ভোটারদের স্বেচ্ছা ও নিরাপদ ভোটদান নিশ্চিত করতে চায়।
র্যাবের গোয়েন্দা দলগুলোও হেলিকপ্টার সমর্থন নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করবে, যাতে সম্ভাব্য হিংসা বা অশান্তি দ্রুত চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ ধরণের সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রংগামাটির পাহাড়ি ভূখণ্ডে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিপক্ষের নেতৃবৃন্দও নিরাপদ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা র্যাবের হেলিকপ্টার ব্যবহারকে স্বাগত জানিয়ে, সকল রাজনৈতিক দলকে সমানভাবে নিরাপত্তা সেবা প্রদান করার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তারা ভোটারদের কোনো ধরনের ভয় বা বাধা ছাড়াই ভোট দেওয়ার অধিকার রক্ষা করার জন্য সকল সংস্থার সহযোগিতা চেয়েছেন।
এই পদক্ষেপের ফলে রংগামাটিতে নির্বাচনের দিন ভোটারদের জন্য পরিবহন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার সম্ভাবনা কমে যাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া সময় নিশ্চিত করা হলে, অপ্রত্যাশিত ঘটনার মোকাবেলা সহজ হবে এবং ভোটের ফলাফল স্বচ্ছভাবে নির্ধারিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিকোণ থেকে, র্যাবের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে বলা হয়েছে যে, দূরবর্তী ও কঠিন প্রবেশযোগ্য এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। হেলিকপ্টার চালু হওয়ায় ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা না থাকলে, ভোটের অংশগ্রহণ হার বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে রংগামাটির মত পাহাড়ি অঞ্চলে নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনায় হেলিকপ্টারসহ অন্যান্য এয়ার মোবিলিটি সেবার ব্যবহার বাড়তে পারে। র্যাবের এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য জেলা ও নির্বাচনী এলাকায় মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে, যেখানে ভূগোলিক প্রতিবন্ধকতা ভোটারদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে।
পরবর্তী ধাপে র্যাবের পাইলট ও ক্রু সদস্যরা হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করে, নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুতি নেবে। একই সঙ্গে, স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান করা যায়।
সারসংক্ষেপে, রংগামাটিতে নির্বাচনের সময় র্যাবের হেলিকপ্টার চালু করা একটি কৌশলগত নিরাপত্তা পদক্ষেপ, যা ভোটারদের নিরাপদে ভোটদান নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে। সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থা এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মসৃণ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।



