20 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকচীনা দূতাবাসের বিবৃতি: মার্কিন দূতাবাসের বাংলাদেশে মন্তব্যে উল্টো উদ্দেশ্য প্রকাশ

চীনা দূতাবাসের বিবৃতি: মার্কিন দূতাবাসের বাংলাদেশে মন্তব্যে উল্টো উদ্দেশ্য প্রকাশ

ঢাকায় চীনা দূতাবাস আজ একটি মিডিয়া বিবৃতি প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশে নিযুক্ত দূতাবাসের মন্তব্যকে উল্টো উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে অভিযুক্ত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধির কথায় চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওপর পুরনো সুরে সমালোচনা করা হয়েছে এবং তা কালো-সাদা মিশ্রণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রয়টার্সের সঙ্গে আজকের সাক্ষাৎকারে মার্কিন দূতাবাসের ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চীনের দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়তে থাকা উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব সীমিত করতে বাংলাদেশে পরবর্তী সরকারকে আমেরিকান ও মিত্র দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের পরিকল্পনা করছে, যা চীনের সরঞ্জামের বিকল্প হবে।

ক্রিস্টেনসেনের এই মন্তব্যের পর, কয়েক ঘন্টার মধ্যেই চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে একটি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। স্পিকার উল্লেখ করেন, চীনা দূতাবাসের অবস্থান স্পষ্ট এবং দৃঢ়, এবং মার্কিন দূতাবাসের কথাগুলো একই পুরনো সুরে পুনরাবৃত্তি হয়েছে। তিনি যুক্তি দেন, এই ধরনের সমালোচনা কেবল চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ককে কালো-সাদা রঙে রঙিন করার চেষ্টা।

চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র আরও জোর দিয়ে বলেন, চীন ও বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান ও সমর্থনের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এবং এ সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে উভয় দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ বিনিময় ও পারস্পরিক উপকারের সহযোগিতা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সহযোগিতা অঞ্চলীয় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বক্তা উল্লেখ করেন, চীন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য অংশীদার এবং তার বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা অঞ্চলীয় উন্নয়ন ও পুনর্জীবনে সহায়তা করেছে। এই সহযোগিতা স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে স্বীকৃতি ও স্বাগত পেয়েছে, যা চীনের নীতি ও কার্যক্রমের প্রতি আঞ্চলিক সমর্থনকে দৃঢ় করে।

চীনা দূতাবাসের বিবৃতি অনুযায়ী, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোনো তৃতীয় দেশের লক্ষ্য নয় এবং বাহ্যিক কোনো শক্তি দ্বারা প্রভাবিত হবে না। এই সম্পর্কের স্বতন্ত্রতা ও স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে চীন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

স্পিকার আরও বলেন, এই সম্পর্ককে বাধা দেওয়া বা ব্যাহত করার কোনো প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। তিনি এই কথাগুলোকে চীনের কূটনৈতিক নীতির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষায় অটল।

বিগত কয়েক বছরে চীন ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গভীর সহযোগিতা গড়ে তুলেছে। বাণিজ্যিক বিনিময় বৃদ্ধি, রেলওয়ে ও জ্বালানি প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ, এবং সামরিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক বহুমুখী হয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়ায় কূটনৈতিক আগ্রহ সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে। ক্রিস্টেনসেনের মন্তব্যে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রভাবের প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী করতে চায়, বিশেষত বাংলাদেশকে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে।

এই পারস্পরিক মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া অঞ্চলীয় কূটনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি অংশ হিসেবে দেখা যায়। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই তাদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য স্থানীয় সরকারগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংলাপ বজায় রাখতে চায়।

সারসংক্ষেপে, চীনা দূতাবাসের আজকের বিবৃতি মার্কিন দূতাবাসের মন্তব্যের প্রতি স্পষ্ট বিরোধ প্রকাশ করে এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের স্বতন্ত্রতা ও পারস্পরিক উপকারের ওপর জোর দেয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব সীমিত করার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দু’দিকের কূটনৈতিক মিথস্ক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments