প্রায় ২৯০ মিলিয়ন বছর আগে, সুপারকন্টিনেন্ট প্যাঙ্গিয়ার কেন্দ্রীয় অংশের একটি পর্বত উপত্যকায় শীর্ষ শিকারী একটি প্রাণী গ্রুপকে গ্রাস করে পরে হজমের অবশিষ্টাংশ বের করে ফেলেছিল। এই হজমের অবশিষ্টাংশের পাথরায়িত রূপ আজ পৃথিবীর স্থলভাগের সবচেয়ে পুরনো ভোমিটের ফসিল হিসেবে পরিচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, শিকারী অন্তত তিনটি ভিন্ন প্রাণীকে খেয়ে পরে হাড়গুলোকে আবার মুখে তুলে ফেলেছিল, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাথরে রূপান্তরিত হয়েছে।
এই ফসিলটি বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য বিরল তথ্য সরবরাহ করে, কারণ এটি শিকারীর আচরণ এবং খাবার চেইনের সরাসরি চিত্র তুলে ধরে। জানুয়ারি ৩০ তারিখে প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরণের সরাসরি প্রমাণ প্রাচীন স্থলজ প্রাণীর জীবনধারা বোঝার জন্য অমূল্য।
ফসিলটি ২০২১ সালে জার্মানির কেন্দ্রীয় অংশের ব্রোম্যাকার লোকালিটিতে আবিষ্কৃত হয়। গবেষকরা প্রথমে পাথরটির আকার এবং অবস্থান লক্ষ্য করে, তারপর আধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাড়ের টুকরোগুলোকে ত্রিমাত্রিক মডেলে রূপান্তরিত করেন। এই মডেলগুলো দেখায় যে হাড়গুলো একাধিক ভিন্ন প্রাণীর, যা শিকারীর পেটের অবশিষ্টাংশের অংশ হতে পারে।
বৈজ্ঞানিক দল হাড়ের চারপাশের পদার্থের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করে পিএসফরাসের মাত্রা কম পাওয়া যায়। এই ফলাফল নির্দেশ করে যে, এটি কোনো মল নয়, বরং হজমের পরে বের হওয়া রিফ্লাক্সের অংশ। ফলে, এই ফসিলকে ‘ভোমিটের ফসিল’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে, যা স্থলভাগের প্রাচীনতম উদাহরণ।
ফসিলের মধ্যে পাওয়া হাড়গুলো থেকে দুইটি ছোট প্রাণী চিহ্নিত করা হয়েছে: ইউডিবামাস কার্সোরিস এবং থুরিংথাইরিস মাহলেনডর্ফি। প্রথমটি সম্ভবত দ্রুতগতির একটি ছোট রেপটাইল, আর দ্বিতীয়টি সম্ভবত জলজ পরিবেশে বসবাসকারী একটি প্রাচীন অ্যাম্ফিবিয়ান। এই দুই প্রজাতি শিকারীর খাবারের বৈচিত্র্যকে নির্দেশ করে।
শিকারী প্রাণীর সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তবে গবেষকরা দুটি সম্ভাব্য প্রজাতির দিকে ইঙ্গিত করছেন, যেগুলো আধুনিক মনিটর লিজার্ডের মতো চেহারার। প্রথমটি হল ডাইমেট্রোডন টেউটোনিস, যার পিঠে বড় সেলাইযুক্ত কাঠামো রয়েছে, আর দ্বিতীয়টি হল তাম্বাকার্নিফেক্স উনগুইফালকাটাস, যা একই সময়ের আরেকটি শীর্ষ শিকারী।
ডাইমেট্রোডন টেউটোনিস প্রাচীন পারমিয়ান যুগের একটি বড় রেপটাইল, যার পিঠের সেলাই সম্ভবত তাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করত। এই বৈশিষ্ট্যটি আধুনিক কোমোডো ড্রাগনের মতো বড় শিকারীর সঙ্গে তুলনা করা যায়, যদিও তারা ভিন্ন সময়ের। তাম্বাকার্নিফেক্স উনগুইফালকাটাসের দেহ গঠনও শক্তিশালী এবং তীক্ষ্ণ দাঁতযুক্ত, যা বড় শিকার ধরতে উপযোগী।
এই ফসিলের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা প্রাচীন স্থলভাগের শীর্ষ শিকারীর হজম প্রক্রিয়া এবং খাবার নির্বাচন সম্পর্কে সরাসরি তথ্য পেয়েছেন। পূর্বে শুধুমাত্র হাড়ের অবশিষ্টাংশ বা চিহ্ন থেকে অনুমান করা হতো, কিন্তু এখন হজমের পরের অবশিষ্টাংশের সরাসরি রেকর্ড পাওয়া গেছে।
এ ধরনের আবিষ্কার প্যালিওইকোলজি গবেষণার পদ্ধতিতে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করে, বিশেষ করে প্রাচীন প্রাণীর আচরণগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে। হজমের অবশিষ্টাংশের রাসায়নিক বিশ্লেষণ এবং ত্রিমাত্রিক পুনর্গঠন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরও সমজাতীয় ফসিলের সন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রাচীন শিকারীর খাবার চেইন এবং পরিবেশগত পারস্পরিক ক্রিয়া বোঝা বর্তমান জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণে সহায়ক হতে পারে। এই গবেষণার ফলাফল থেকে দেখা যায়, শীর্ষ শিকারী এবং তাদের শিকারের মধ্যে জটিল সম্পর্ক প্রাচীনকালে ইতিমধ্যে গড়ে উঠেছিল।
এই ধরনের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি আমাদেরকে অতীতের পৃথিবীকে আরও স্পষ্টভাবে কল্পনা করতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতে সমজাতীয় গবেষণার জন্য নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করে। আপনি কি মনে করেন, আরও কোন প্রাচীন পরিবেশের সরাসরি চিত্র আমাদের হাতে আসতে পারে?



