ডোনা ল্যাংলি, এনবিসি ইউনিভার্সাল এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ার, ২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার অনুষ্ঠিত ইই বাফ্টা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসে বাফ্টা ফেলোশিপ সম্মান পেতে যাচ্ছেন। বাফ্টা ফেলোশিপ হল ব্রিটিশ একাডেমি অফ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশনের সর্বোচ্চ পুরস্কার, যা চলচ্চিত্র, গেমস অথবা টেলিভিশনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দেয়।
বাফ্টা বুধবার এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়ে ল্যাংলিকে বর্ণনা করেছে: তিনি আইল অফ হোয়াইটে জন্মগ্রহণ ও বড় হয়েছেন এবং হলিউডের বড় স্টুডিও পরিচালনা করা প্রথম ব্রিটিশ নারী। ৩০ বছরেরও বেশি সময় আগে কোনো শিল্প সংযোগ ছাড়াই লস এঞ্জেলেসে পা রাখার পর, আজ তিনি এনবিসি ইউনিভার্সালের সব এন্টারটেইনমেন্ট প্রোগ্রামের সৃজনশীল কৌশল, ব্যবসায়িক অপারেশন, প্রোডাকশন, অধিগ্রহণ, মার্কেটিং এবং বিতরণ তদারকি করেন।
বাফ্টা ফেলোশিপ ল্যাংলির ‘দ্রুত পরিবর্তন ও বিঘ্নের মুখে রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব, অন্তর্ভুক্তি ও ট্যালেন্ট পাইপলাইন গঠনে অবিচল প্রতিশ্রুতি, এবং সৃজনশীল অংশীদারদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক’ এর জন্য প্রদান করা হচ্ছে। এই গুণাবলী তাকে বিনোদন শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
ল্যাংলি এই সম্মানকে নিয়ে তার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন: তিনি এটিকে “অসাধারণ গৌরব” বলে উল্লেখ করে, নিজের দেশ ও সহকর্মীদের কাছ থেকে স্বীকৃতি পাওয়াকে “একটি বিশাল গর্ব” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি যোগ করেন, তার ক্যারিয়ার গঠনে যেসব সৃজনশীল অংশীদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদান ছাড়া এই পুরস্কার অর্জন সম্ভব হতো না।
বাফ্টা চেয়ার সারা পাট্টের মন্তব্যে ল্যাংলির সাংস্কৃতিক প্রভাবের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “একটি বড় হলিউড স্টুডিও পরিচালনা করা প্রথম ব্রিটিশ নারী হিসেবে ডোনা ল্যাংলির নেতৃত্ব শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তার রূপান্তরমূলক স্টুডিও পরিচালনা এবং সৃজনশীল অংশীদারদের সঙ্গে গড়ে তোলা সম্পর্কের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বহু আইকনিক চলচ্চিত্র দর্শকের কাছে পৌঁছেছে।”
ডোনা ল্যাংলির ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৯০-এর দশকে, যখন তিনি লস এঞ্জেলেসে কোনো পরিচিতি ছাড়াই প্রবেশ করেন। সময়ের সাথে সাথে তিনি টিভি ও চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রেই বিশাল প্রকল্পের দায়িত্বে আসেন, যার মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজ এবং নতুন উদ্ভাবনী কন্টেন্ট। তার নেতৃত্বে এনবিসি ইউনিভার্সাল বহু সফল ফিল্ম ও সিরিজের উৎপাদন ও বিতরণ করেছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ সাফল্য অর্জন করেছে।
ল্যাংলির নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য হল বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার। তিনি বিভিন্ন পটভূমির সৃজনশীল প্রতিভাকে সুযোগ প্রদান করে শিল্পের ট্যালেন্ট পাইপলাইনকে শক্তিশালী করেছেন। তার উদ্যোগে নতুন ট্যালেন্টের জন্য প্রশিক্ষণ ও মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু হয়েছে, যা তরুণ শিল্পী ও নির্মাতাদের ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করে।
বিনোদন শিল্পে দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের উত্থান এবং ভোক্তার চাহিদার পরিবর্তন ল্যাংলির কাজের পরিবেশকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। তবু তিনি এই পরিবর্তনকে সুযোগে রূপান্তর করে, এনবিসি ইউনিভার্সালের কন্টেন্ট পোর্টফোলিওকে বৈশ্বিক দর্শকের সঙ্গে মানানসই করে গড়ে তুলেছেন। তার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি স্টুডিওকে ডিজিটাল যুগে টিকে থাকতে এবং নতুন আয় উৎস তৈরি করতে সহায়তা করেছে।
বাফ্টা ফেলোশিপের স্বীকৃতি ল্যাংলির ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই পুরস্কার শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সৃজনশীল পরিবেশের স্বীকৃতি। শিল্পে তার প্রভাব ভবিষ্যতে আরও বেশি নারী ও বৈচিত্র্যময় ট্যালেন্টকে উচ্চ পদে পৌঁছাতে অনুপ্রেরণা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইভেন্টটি লন্ডনের ইই বাফ্টা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসের প্রধান অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অংশ নেবে। ল্যাংলির উপস্থিতি এবং তার সম্মাননা অনুষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, যা বাফ্টা ফেলোশিপের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করবে।
বাফ্টা এই পুরস্কারটি প্রতি বছর একাধিক ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদান করে, তবে ল্যাংলির মতো স্টুডিও নেতৃত্বের জন্য এই স্বীকৃতি তুলনামূলকভাবে বিরল। তার অর্জন শিল্পের গঠনমূলক পরিবর্তন, সৃজনশীল সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক কন্টেন্টের প্রসারকে প্রতিফলিত করে।
ডোনা ল্যাংলির বাফ্টা ফেলোশিপ গ্রহণের পর, শিল্পের বিশ্লেষকরা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নতুন প্রকল্পের দিকে নজর রাখবে। তার নেতৃত্বে এনবিসি ইউনিভার্সাল কী ধরনের নতুন কন্টেন্ট ও প্রযুক্তি গ্রহণ করবে, তা গ্লোবাল বিনোদন বাজারের প্রবণতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, ডোনা ল্যাংলি বাফ্টা ফেলোশিপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন, যা তার রূপান্তরমূলক নেতৃত্ব, অন্তর্ভুক্তি প্রচার এবং সৃজনশীল অংশীদারদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্কের স্বীকৃতি। এই সম্মান তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি বৈচিত্র্যময় ও উদ্ভাবনী কন্টেন্টের পথ প্রশস্ত করবে।



