কোলোম্বোর আর‑প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বুধবার টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ১৮২ রানের লক্ষ্য স্থাপন করে আয়ারল্যান্ডকে ৬৭ রান পার করে জয়লাভ করে। টস জিতে অস্ট্রেলিয়ার অস্থায়ী অধিনায়ক ট্র্যাভিস হেড প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেন, যা ধীর ও ঘূর্ণায়মান পিচের জন্য উপযোগী ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং শুরুতে দ্রুত গতি দেখা যায়; প্রথম ছয় ওভারে দলটি ৬৪ রান সংগ্রহ করে, যার মধ্যে জোশ ইনগ্লিসের ৩৭ রান ১৭ বলের ঝাঁকুনি এবং ক্যামেরন গ্রীনের ২১ রান উল্লেখযোগ্য। হেড এবং গ্রীনের প্রারম্ভিক আউটের পরেও নাথান এলিসের শেষ ওভারে ৪ উইকেটের পারফরম্যান্স দলকে স্থিতিশীল রাখে।
পাওয়ারপ্লে শেষে রেনশাও এবং মার্কাস স্টোইনিসের ৬১ রান যুক্ত অংশীদারিত্ব অস্ট্রেলিয়ার স্কোরকে ১২০ রনের কাছাকাছি নিয়ে যায়। রেনশাও ৩৭ রান এবং স্টোইনিস ৪৫ রান যোগ করে দলকে শক্ত ভিত্তি প্রদান করে, যা পরবর্তী ওভারগুলোতে অতিরিক্ত ৬২ রান যোগ করতে সহায়তা করে। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া ২০ ওভারে ১৮২ রানের লক্ষ্য অর্জন করে, উইকেটের সংখ্যা ৬।
আয়ারল্যান্ডের শিকড়ে পল স্টারলিং প্রথম বলেই দৌড়ে গিয়ে পা মোচড়ে আঘাত পায় এবং তৎক্ষণাৎ মাঠ ছেড়ে যায়, ফলে দলটি এক খেলোয়াড় কমে যায়। স্টারলিংয়ের অপ্রত্যাশিত প্রস্থান আয়ারল্যান্ডের শুরুর পরিকল্পনাকে নষ্ট করে দেয়। হ্যারি টেক্টর দ্বিতীয় ওভারে শূন্যে শেষ হয়, এবং রস অ্যাডেয়ারও ড্রপের পর এলিসের হাতে ১২ রান নিয়ে আউট হয়।
এলিসের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে; তিনি কার্টিস ক্যাম্পারকে মিড-উইকেটের কাছে ক্যাচে আউট করেন এবং বেন ক্যালিটজকে পাওয়ারপ্লে ভেতরে তৃতীয় উইকেট হিসেবে গৃহীত করেন, ফলে আয়ারল্যান্ডের স্কোর ২৭ রনে ৪ উইকেটের নিচে নেমে আসে। এই মুহূর্তে ম্যাচের দিক পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এরপর অডাম জাম্পা পালা নেয়; তিনি পরপর চারটি উইকেট নেন, যার মধ্যে জর্জ ডক্লেরও অন্তর্ভুক্ত, যিনি ২৯ বলে ৪১ রান করে দলকে সাময়িকভাবে আশাবাদী করে তুলেছিলেন। ডক্লেরকে একটি চওড়া ডেলিভারিতে স্টাম্পে আউট করা হয়, যা আয়ারল্যান্ডের মাঝামাঝি ব্যাটিং ক্রমকে ভেঙে দেয়।
জাম্পার পরবর্তী উইকেটগুলোতে বারি ম্যাককারথিকে ডিপ মিড-উইকেটে ক্যাচে আউট করেন, ফলে এলিসের চতুর্থ উইকেট নিশ্চিত হয়। স্টারলিংয়ের পুনরায় ব্যাটিং করার সুযোগ না পেয়ে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ দ্রুত ভেঙে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ১১৫ রনে সব আউট হয়।
অস্ট্রেলিয়ার বোলিং পারফরম্যান্সও উল্লেখযোগ্য; নাথান এলিসের ৪ উইকেটের সঙ্গে ১২ রান এবং অডাম জাম্পার ৪ উইকেটের সঙ্গে ২৩ রান দখল করে। উভয় বোলারই পিচের ধীর গতি ও ঘূর্ণায়মান শর্তকে কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিংকে দমিয়ে রাখে।
এই জয় অস্ট্রেলিয়ার টুর্নামেন্টের সূচনা শক্তিশালী করে এবং দলকে পরবর্তী ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাস প্রদান করে। আয়ারল্যান্ডের জন্য এই পরাজয় তাদের শুরুর পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার সংকেত দেয়, বিশেষ করে ক্যাপ্টেনের আঘাত এবং শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের দ্রুত আউট হওয়া বিবেচনা করে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে উভয় দলই তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারণ করবে।



