চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলায়, ভোটের এক দিন আগে, কদলপুর ইউনিয়নের শমসেরপাড়া গ্রামে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী রুস্তম আলীর বাড়িতে গুলিবর্ষণ ঘটেছে। ঘটনাটি বুধবার দুপুরে ঘটেছে এবং গুলিবর্ষণকারী গোষ্ঠীর পরিচয় এখনো স্পষ্ট হয়নি।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রায় দশ থেকে বারোজনের একটি দল বাড়ির দিকে অযথা গুলি চালিয়ে কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে এবং দ্রুতই স্থান ত্যাগ করে। গুলি চালানোর পর কোনো ক্ষতি বা আহতের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি, তবে বাড়ির আশেপাশে গুলি-ধ্বংসের চিহ্ন দেখা গিয়েছে।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই গুলিবর্ষণকারী গোষ্ঠী পালিয়ে যায়।现场ে কোনো সন্দেহভাজন পাওয়া যায়নি এবং গুলিবর্ষণের সময় উপস্থিত কোনো ব্যক্তি সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
অধিক তদন্তের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও রুস্তম আলীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হলেও, গুলিবর্ষণকারী গোষ্ঠীর পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাউজান থানা ওসির (অফিসার ইন চার্জ) সাজেদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং জানান, গুলিবর্ষণের কারণ এখনো অজানা, তবে গুলিবর্ষণকারী গোষ্ঠীর সুনির্দিষ্ট সনাক্তকরণে অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী একসাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রুস্তম আলী, যিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে কাজ করেন, রাউজান সংসদসদে বিএনপি প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তার বাড়ি লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কোনো স্পষ্ট সূত্র পাওয়া যায়নি, তবে এই ঘটনার সময় ভোটের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ছে।
রাউজান অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন রয়েছে, তবে এই গুলিবর্ষণ ঘটনাটি সরাসরি কোনো পূর্বের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন পূর্বে ঘটিত অপরাধের তদন্তে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, গুলিবর্ষণ, সশস্ত্র হুমকি এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগের জন্য পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে।
অধিক তদন্তে গুলিবর্ষণকারী গোষ্ঠীর সনাক্তকরণ, গুলি-ধ্বংসের উৎস, এবং গুলিবর্ষণের উদ্দেশ্য নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সিসিটিভি রেকর্ড এবং স্থানীয় সাক্ষীদের বিবৃতি সংগ্রহ করা হবে।
স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বে রয়েছে ভোটের পূর্বে এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এই ঘটনার পর, রাউজান থানা ওসিরা নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পেট্রোলিং এবং নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছেন।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বাচনের আগে সকল ধরণের হিংসাত্মক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গুলিবর্ষণ ঘটনার তদন্ত চলমান থাকায়, ভবিষ্যতে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।
এই ঘটনার পর, রুস্তম আলীর পরিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। গুলিবর্ষণকারী গোষ্ঠীর সনাক্তকরণ ও আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে আপডেট পাওয়া মাত্রই জনসাধারণকে জানানো হবে।



