মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার ফক্স বিজনেসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, গত বছর মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘর্ষে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান সংখ্যা দশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এই সংখ্যা পূর্বে পাঁচ, সাত এবং আট বলে উল্লেখের পর এখন দুই অঙ্কে পৌঁছেছে বলে জানান।
মে ২০২৫-এ শুরু হওয়া এই সামরিক সংঘাতে উভয় পক্ষের বিমানবাহিনীর মধ্যে তীব্র মোকাবেলা দেখা গিয়েছিল, এবং প্রাথমিক প্রতিবেদনে পাঁচটি বিমান ধ্বংসপ্রাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের ধারাবাহিক মন্তব্যে এই সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
প্রথমে তিনি পাঁচটি বিমান ধ্বংসপ্রাপ্তের তথ্য প্রকাশ করেন, এরপর অক্টোবর মাসে তা সাতটি এবং নভেম্বর মাসে আটটি বলে সংশোধন করেন। সর্বশেষে তিনি দশটি বিমান ধ্বংসপ্রাপ্তের দাবি তুলে ধরেন, যদিও কোন পক্ষের কাছ থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি।
ট্রাম্প তার এই বক্তব্যকে নিজের শুল্ক নীতি ও অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি বলেন, তার আরোপিত শুল্কের ফলে যুদ্ধের গতি ধীর হয়ে শত্রু পক্ষের আগ্রাসন থেমে গেছে এবং এভাবে বহু প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। তিনি শুল্ক নীতিকে “ভদ্র ও সুন্দর” উপায় হিসেবে বর্ণনা করেন।
এছাড়া তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের ভূমিকা প্রশংসা করেন। ট্রাম্পের মতে, শেহবাজ শরীফের হস্তক্ষেপের ফলে এক কোটি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে এবং পারমাণবিক সংঘাতে রূপান্তরিত হওয়া যুদ্ধ থেমে গিয়েছিল। তিনি শুল্কের অভাবে এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হতো না, এ কথাও জোর দিয়ে বলেন।
ট্রাম্প আরেকটি আন্তর্জাতিক সংঘাতের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের দশকের দীর্ঘ বিরোধে মধ্যস্থতা করে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের আগস্টে স্বাক্ষরিত চুক্তির পর থেকে উভয় দেশের মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শেহবাজ শরীফ ভারত‑পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। সেই সময়ে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপকে প্রশংসা করা হয়েছিল।
যদিও ট্রাম্পের এই দাবিগুলি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয়, তবে ভারত ও পাকিস্তান উভয় সরকার থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষের সামরিক তথ্য এখনও গোপনীয়, এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমানের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণে পারস্পরিক স্বীকৃতি অনুপস্থিত।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের ফলে মার্কিন সরকার এবং ভারত- পাকিস্তান সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তার শুল্ক নীতি ও কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের মূল্যায়ন উভয় দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে পুনর্বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে, ট্রাম্পের এই ধরনের প্রকাশনা তার নিজস্ব বিদেশ নীতি ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ভারত‑পাকিস্তান সংঘাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমানের সংখ্যা নিয়ে ট্রাম্পের ধারাবাহিক পরিবর্তনশীল বিবৃতি কূটনৈতিক ও সামরিক তথ্যের স্বচ্ছতার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে উভয় দেশের মধ্যে স্বচ্ছ তথ্য শেয়ারিং এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই ধরনের বিতর্কের সমাধান সম্ভব হতে পারে।



