কুমিল্লা-৪ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য এবং সম্প্রতি বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, ভোটারদের ওপর ভয় দেখানো ও বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় ১১ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার সিনিয়র সিভিল জজ তাফরিমা তাবাসুমের অধীনে আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেন।
মুন্সীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোতে নির্বাচনী সময়ে ভয় দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার এবং গৃহস্থালির সম্পত্তি ধ্বংসের হুমকি অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরে এসেছে।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তাবাসুম স্বাক্ষরিত নোটিশে মুন্সীকে ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে নির্দেশ দেয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, তিনি নির্ধারিত সময়ে না আসলে অতিরিক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নির্ধারিত তারিখে মুন্সী ব্যক্তিগতভাবে আদালতে গিয়ে তার ব্যাখ্যা লিখিত রূপে উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, অভিযোগে উল্লিখিত ঘটনাটি মূলত একটি কথোপকথনের সময়ের ভুল বোঝাবুঝি, যেখানে তিনি গভীর রাতে অনুষ্ঠিত একটি উঁঠান বৈঠকের পর ক্লান্ত অবস্থায় কথা বলার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন মন্তব্য করে থাকেন।
মুন্সীর ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার পর, বিচারক বিষয়টি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পর্যালোচনার জন্য রেখে দেন এবং সিদ্ধান্তের সময়সীমা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নির্ধারণের নির্দেশ দেন। এতে উল্লিখিত হয়েছে যে, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরই চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।
মুন্সীর আইনজীবী এবি এম হামিদুল মিসবাহ আদালতে জানান যে, বিচারক মামলার সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে তাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য এড়াতে আহ্বান জানিয়েছেন।
মুন্সী নিজে বলেন যে, তিনি রাতের বৈঠকের পর দীর্ঘ সময় নির্বাচনী কাজের মধ্যে ব্যস্ত ছিলেন এবং ক্লান্ত অবস্থায় কথার ফাঁদে পড়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন মন্তব্য করে গেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তার কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা হুমকি দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না এবং কিছু লোক বিষয়টি অতিরিক্ত বাড়িয়ে তুলেছে।
বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পরেও মুন্সী জানান যে, তিনি আজীবন বিএনপির পাশে থাকবেন এবং তার রাজনৈতিক আদর্শে অবিচল থাকবেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া সত্ত্বেও তার কাজের দিকনির্দেশনা ও নীতি পরিবর্তন হবে না।
আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে, মুন্সী তার প্রচেষ্টাকে ট্রাক প্রতীককে বিজয়ী করার দিকে কেন্দ্রীভূত করবেন বলে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার নির্ধারিত নির্বাচনে তিনি এবং তার সমর্থকগণ ট্রাক প্রতীককে জয়ী করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবেন।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়তে পারে, বিশেষ করে কুমিল্লা-৪ আসনে ভোটারদের মনোভাব ও ভোটের প্রবণতা নির্ধারণে এই মামলার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনী কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট কমিটি এখন মামলাটির পর্যালোচনা শেষ করে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মুন্সীর আদালতে উপস্থিতি এবং তার লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়া নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিচারকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলাকালীন সময়ে উভয় পক্ষই জনমত গঠন ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে মনোযোগী থাকবে।



