22 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকুষ্টিয়ার ভোটকেন্দ্রের পাশে বোমা সাদৃশ্য ১০টি বস্তু উদ্ধার

কুষ্টিয়ার ভোটকেন্দ্রের পাশে বোমা সাদৃশ্য ১০টি বস্তু উদ্ধার

কুষ্টিয়া জেলায় কুমারখালী উপজেলায় ১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেল প্রায় ১১টা ৩০ মিনিটে বানায়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি লাল টেপে মোড়ানো দশটি বোমা সাদৃশ্য বস্তু উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে স্থানীয় রাজমিস্ত্রি মো. ফরিদ খান প্রথমে দুটি প্লাস্টিক ব্যাগে বাঁধা বস্তু লক্ষ্য করেন এবং সন্দেহজনক হওয়ায় স্থানীয়দের জানিয়ে দেন। এরপর পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তুগুলো তৎক্ষণাৎ সংগ্রহ করে কুমারখালী থানা নিয়ে যায়।

উদ্ধারকৃত বস্তুগুলো দুটি প্লাস্টিক ব্যাগে লাল টেপে মোড়ানো ছিল; বড় চারটি এবং ছোট ছয়টি, মোট দশটি বোমা বা ককটেল সাদৃশ্যের আইটেম। এসব বস্তু ভোটকেন্দ্রের প্রায় বিশ মিটার দূরে অবস্থিত বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়ের পাশেই পাওয়া যায়, যা নিরাপত্তা সংস্থার জন্য উদ্বেগের বিষয় তৈরি করে।

কুমারখালী থানা ওয়ানিং অফিসার জামাল উদ্দিন জানান, সন্ধ্যা ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি ও তার দল বস্তুগুলো পরীক্ষা করে দেখেন এবং তা থানায় নিয়ে গিয়ে ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত বস্তুগুলোর সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি ও সম্ভাব্য বিস্ফোরণ ক্ষমতা নির্ধারণের জন্য বিশেষজ্ঞ দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার মেজর তারিকও জানান, এনএসআই গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে একই সময়ে ৯-১০টি ককটেল সাদৃশ্য বস্তু শনাক্ত করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বস্তুগুলো যথাযথ পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় রাজমিস্ত্রি ফরিদ খান সকালবেলা ব্যাগগুলোকে মাঠের পাশে দেখতে পান, যেখানে সেগুলো কোনো চিহ্ন ছাড়াই রাখা ছিল। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আশেপাশের লোকজনকে সতর্ক করেন এবং পরে পুলিশকে জানিয়ে দেন। তার দ্রুত পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য বিপদের সময়মতো নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সময়ে নির্বাচনী স্থানে এমন ধরণের সন্ত্রাসী বস্তু পাওয়া নিরাপত্তা সংস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আইন অনুসারে, বোমা বা সাদৃশ্য বস্তু পাওয়া গেলে এক্সপ্লোসিভস অ্যাক্টের অধীনে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের ব্যবস্থা থাকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, থানার তদন্ত দল এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেনি, তবে স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ, সিসিটিভি রেকর্ড ও মোবাইল ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনের সনাক্তকরণ চালিয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

বোমা সাদৃশ্য বস্তুগুলো ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে বিশ্লেষণ শেষে ফলাফল জানালে, থানা তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে মামলার রেজিস্ট্রেশন করবে এবং প্রয়োজনীয় রিম্যান্ডের আবেদন দায়ের করবে। আদালত থেকে অনুমোদন পেলে সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হবে।

সন্ধ্যা পর্যন্ত থানা থেকে এই বস্তুগুলোর বিষয়ে কোনো নতুন আপডেট প্রকাশিত হয়নি। তবে নিরাপত্তা সংস্থার সূত্রে জানা যায়, পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে ফলাফল জানিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা উদ্বেগকে আবারও তীব্র করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে কেন্দ্রীভূত থাকবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments