22 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচৌদ্দগ্রামে ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিতরণে দুই বিএনপি কর্মীকে স্থানীয়রা আটক করেছে

চৌদ্দগ্রামে ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিতরণে দুই বিএনপি কর্মীকে স্থানীয়রা আটক করেছে

কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা গুনবতী ইউনিয়নে বুধবার সকালবেলায় দুইজন বিএনপি কর্মী ভোটার স্লিপের সঙ্গে নগদ অর্থ বিতরণ করার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে আলোচনা করে তারা শেষ পর্যন্ত ছেড়ে যায়।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নুরুল আমিন জানান, গুনবতী ইউনিয়নের এই ঘটনার পর তারা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে পাঠায়, তবে পুলিশ পৌঁছানোর সময় সংশ্লিষ্ট দুই কর্মী ইতোমধ্যে সরে গিয়েছিল। যদিও সরাসরি গ্রেফতার হয়নি, তবু বিষয়টি ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে জানিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

ধরা পড়া দুই কর্মী হলেন আবদুল মান্নান এবং ফকির মেম্বার, যাদের পরিচয় কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদার সমর্থক হিসেবে জানা যায়। তারা নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ভোটার স্লিপের সঙ্গে নগদ অর্থ বিতরণ করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন বলে সূত্রগুলো জানায়।

স্থানীয়দের মতে, মান্নান ও মেম্বার গৃহে গৃহে গিয়ে ভোটার স্লিপের সঙ্গে টাকা বিতরণ করছিলেন, তখনই গ্রামবাসীরা তাদের আটক করে। আটক হওয়ার পর দুইজন কর্মী স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে, কিছু সময়ের মধ্যে সমঝোতা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই ধরণের সরাসরি নগদ বিতরণ নির্বাচনী কোডের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান জানান, ঘটনাটি স্থানীয় সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে, তবে বিষয়টি জানার পর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াউদ্দিনের মন্তব্যে তিনি ঘটনাটিকে “সাজানো” বলে অভিযুক্ত করেন এবং দাবি করেন যে তাদের দলকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং কোনো অবৈধ কার্যক্রমের প্রমাণ না থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট, বিশেষত আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন সময়ে। ভোটার স্লিপের সঙ্গে নগদ বিতরণ নির্বাচনী নীতি লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে গণ্য হলে, তা নির্বাচনী কমিশনের তত্ত্বাবধানে কঠোর শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা তৈরি করে। একই সঙ্গে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় হস্তক্ষেপ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণা পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা ও আইনগত সীমারেখা বজায় রাখতে চাপ সৃষ্টি করবে।

পরবর্তী ধাপে, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে ফলাফল জানাবে, এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ের ভিত্তিতে গ্রেফতার, জমানত বা অন্যান্য শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে নজরদারি বাড়াবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। সবশেষে, উভয় দলই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের প্রচারণা কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে, যাতে নির্বাচনী কোডের লঙ্ঘন না হয় এবং ভোটারদের সঙ্গে স্বচ্ছ সম্পর্ক বজায় থাকে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments