চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ১২টায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ১০ লাখ ৪৯ হাজার টাকার নগদ এবং একটি নতুন মাইক্রোবাস জব্দ করা হয় এবং তিনজনকে, যার মধ্যে গাড়ির চালকও অন্তর্ভুক্ত, গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের পরে চন্দনাইশ থানা-এ হস্তান্তর করা হয়।
অভিযানটি চন্দনাইশের আবদুল বারিহাট এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনীর দল স্থানীয় তথ্য সংগ্রহের ভিত্তিতে সন্ধ্যা ১১টায় এলাকায় প্রবেশ করে এবং প্রায় এক ঘন্টার মধ্যে নগদ ও গাড়ি জব্দ করে। জব্দকৃত মাইক্রোবাসটি নতুন মডেলের নোয়া মাইক্রোবাস, যা রিকুইজিশন করা হয়।
জব্দকৃত নগদের পরিমাণ ১০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা, যা স্থানীয় সূত্রে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সম্পদ বলে চিহ্নিত। গাড়ির চালকসহ দুইজন অন্য সন্দেহভাজনও গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারকৃতদের চন্দনাইশ থানা-এ হস্তান্তরের পর, থানা-ওসির নির্দেশে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
চন্দনাইশ থানার ওসি মো. ইলিয়াছ খাঁন জানান, “সেনাবাহিনী রাত ১২টার দিকে নগদ ও মাইক্রোবাস জব্দ করে তিনজনকে আটক করেছে এবং তা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, জব্দকৃত নগদের মালিক ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মিজানুল হক চৌধুরী।
অধিক তথ্য অনুসারে, মিজানুল হক চৌধুরী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি জব্দকৃত নগদের উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং বিষয়টি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সমীక్షার জন্য উপস্থাপন করেছেন। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুসারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ওসি উল্লেখ করেন।
প্রার্থীর ব্যাখ্যা সত্ত্বেও, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এখনও বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। ট্রাইব্যুনাল নির্বাচনী আইন ও বিধি অনুসারে প্রার্থীর আর্থিক সম্পদের স্বচ্ছতা যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
মিজানুল হক চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা সত্ত্বেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে, তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও চন্দনাইশ থানা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। জব্দকৃত নগদ ও গাড়ির উৎস, ব্যবহার এবং সম্ভাব্য লঙ্ঘন সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের পরই চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষায়, মিজানুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও নির্বাচনী অবস্থান অনিশ্চিত রয়ে গেছে। যদি ট্রাইব্যুনাল নগদ জব্দকে অবৈধ বলে রায় দেয়, তবে প্রার্থীকে নির্বাচনী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া বা অন্যান্য শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী আর্থিক নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। প্রার্থীর সম্পদ গোপন রাখা বা অবৈধভাবে ব্যবহার করা হলে তা নির্বাচনী ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করে এবং আইনি দায়বদ্ধতা আরোপ করে। তাই, এই ধরনের জব্দ ও গ্রেফতার নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অবশেষে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে তদন্তের ফলাফল ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



