স্কটল্যান্ডের ডালস্কোন ফার্মে বসবাসরত এককাকী গাভী ফিওনা, যাকে গত অক্টোবর ২০২৩-এ ক্রোমার্টি ফারথের ঢালু ক্লিফের পাদদেশে আটকে থাকা অবস্থায় একটি কায়াকার আবিষ্কার করেছিল, প্রথমবারের মতো দুটো ভেড়া সন্তানকে স্বাভাবিকভাবে জন্ম দিল।
ফিওনা ২০২৩ সালের শুরুর দিকে গর্ভবতী হওয়ার ঘোষণা পাওয়ার পর থেকে ফার্মের কর্মীদের নজরে ছিল। দুই বছরের বেশি সময়ের যত্নের পর, গাভীটি স্বাস্থ্যের কিছু সমস্যার সত্ত্বেও, বিশেষত অতিরিক্ত ওজনের কারণে, গর্ভধারণের পর্যায়ে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
ফার্মের মালিক বেন বেস্টের মতে, গাভীর শারীরিক অবস্থা উন্নত হওয়ার পর গর্ভধারণের অনুমতি দেওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত জন্মের প্রক্রিয়া কোনো জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, গাভীটি স্বাভাবিকভাবে দুইটি সন্তান—একটি পুরুষ এবং একটি মহিলা—জন্ম দিয়েছে এবং উভয়ই সুস্থ অবস্থায় রয়েছে।
দুজনের নাম এখনো নির্ধারিত হয়নি; ফার্মের কর্মীরা নামের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেন বেস্ট জানান, “একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে—একটি পুরুষ ও একটি নারী—যা বেশ সুন্দর সমন্বয়। শ্রেকের সন্তানদের নামের মতো কিছু প্রস্তাবও এসেছে, যেমন ফারগাস, ফার্কল এবং ফেলিসিয়া।”
ফিওনার নামকরণে একটি মজার গল্প রয়েছে। কয়েক বছর আগে নিউজিল্যান্ডে একা বসবাসকারী গাভীকে শ্রেকের নামকরণ করা হয়েছিল; তাই স্কটল্যান্ডের এই গাভীকে তার স্ক্রিন পার্টনারের নাম—ফিওনা—দেওয়া হয়।
ফিওনা প্রথমে যখন ডালস্কোন ফার্মে পৌঁছায়, তখন তার শারীরিক অবস্থা দুর্বল এবং অতিরিক্ত ওজনের কারণে তাকে বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। তবে সময়ের সাথে সাথে তার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে এবং ফার্মের কর্মীরা তাকে গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত বলে সিদ্ধান্ত নেন।
গভীর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফিওনা অন্য গাভী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে মেলামেশা করতে পারেনি। বেন বেস্ট স্বীকার করেন, “সত্যি বলতে, সে অন্য গাভী গুলোর সঙ্গে পুরোপুরি মিশে না। সবসময় নিজে থেকেই আলাদা থাকে।” এই সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তাকে ‘একাকী’ গাভী হিসেবে পরিচিত করিয়েছে।
ফার্মের কর্মীরা ফিওনার গর্ভধারণ এবং সফল জন্মকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন, কারণ এটি গাভীর সামাজিক ও শারীরিক পুনরুদ্ধারের চিহ্ন বহন করে। একই সঙ্গে, এই ঘটনা স্থানীয় পর্যটন ক্ষেত্রের জন্যও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, কারণ ফার্মটি এখন ভিজিটরদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।
ফার্মের ব্যবস্থাপনা জানায়, ভবিষ্যতে ফিওনা এবং তার সন্তানদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিশেষ পুষ্টি ও পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে। এছাড়া, গাভীর সামাজিক আচরণ উন্নত করার জন্য ধীরে ধীরে অন্যান্য গাভীর সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ তৈরি করা হবে।
ফিওনার জন্মের খবর স্থানীয় মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। অনেক মানুষ গাভীর এই নতুন জীবনকে উদযাপন করে, এবং নামের প্রস্তাবের জন্য সৃজনশীল মন্তব্য শেয়ার করে।
ডালস্কোন ফার্মের এই সাফল্য স্কটল্যান্ডের পশু সুরক্ষা ও কৃষি সংস্থাগুলোর জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গাভীর পুনরুদ্ধার এবং সফল প্রজনন প্রক্রিয়া ভবিষ্যতে অনুরূপ পরিস্থিতিতে থাকা প্রাণীদের জন্য রোল মডেল হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, একাকী গাভী ফিওনা এখন দুইটি সুস্থ ভেড়া সন্তানকে জন্ম দিয়ে তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। তার গল্পটি প্রাণী সুরক্ষা, সামাজিক আচরণ এবং কৃষি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে, যা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মনোযোগ আকর্ষণ করছে।



