গণ অধিকার পরিষদ লন্ডনে অবস্থানরত আবুল বাশারকে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর উপজেলার অংশ) আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে। নির্বাচনের তিন দিন আগে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগে আপত্তি জানিয়ে, পার্টির ট্রাক প্রতীকের অননুমোদিত ব্যবহার ও নকল স্বাক্ষরের বিরুদ্ধে সতর্কতা জানিয়েছেন।
আবুল বাশারকে পার্টির নেতা‑কর্মীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর তা নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পেয়ে বৈধ ঘোষিত হয়েছে। জমা দেওয়ার সময়সূচি অনুসারে প্রয়োজনীয় নথি যথাসময়ে জমা হয়েছে এবং নির্বাচনী কমিশন থেকে কোনো আপত্তি না থাকায় তাকে প্রার্থীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রার্থীকে পার্টির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সমর্থন জানিয়ে, তার মনোনয়নের পেছনে দলীয় সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা তুলে ধরেছেন। তবে পার্টির প্রতীক বরাদ্দের পরেও আবুল বাশার বিদেশে অবস্থান করার কারণে তিনি কোনো সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেননি। তার উপস্থিতি না থাকায় ভোটকেন্দ্রে তার নামের কোনো পোস্টার, ব্যানার বা গণসংযোগের চিহ্ন দেখা যায়নি।
৯ ফেব্রুয়ারি তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “আমি ট্রাক প্রতীকে ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ করছি না এবং কোনো দলকে সমর্থন দিচ্ছি না।” তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ বা কোনো গোষ্ঠী পার্টির ট্রাক প্রতীক ব্যবহার করে, আমার স্বাক্ষর নকল করে এজেন্ট নিয়োগ করে, তবে তার জন্য আমি কোনো দায় নেব না।” এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি সম্ভাব্য আইনি জটিলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আবুল বাশারের মনোনয়নপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা হয়েছে এবং পর্যালোচনার পর তা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে প্রার্থী বিদেশে থাকায় নির্বাচনী কার্যক্রমে তার সরাসরি অংশগ্রহণের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
রায়পুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গমন করে দেখা যায়, অন্যান্য প্রার্থীর পোস্টার, ব্যানার ও গণসংযোগের প্রচুর উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও আবুল বাশারের নামে কোনো দৃশ্যমান প্রচারণা নেই। তার নাম ও প্রতীক সম্পর্কে স্থানীয় ভোটারদের বেশিরভাগই অজ্ঞ।
স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ জানান, “আমি এখনো এই প্রার্থী সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না; অন্য প্রার্থীদের পোস্টার দেখা যায়, কিন্তু তার কোনো চিহ্ন দেখিনি।” রায়পুর পৌর এলাকার বাসিন্দা আবদুর রজ্জাকও একই রকম মন্তব্য করেন, “নির্বাচন এলে প্রার্থীরা এখানে এসে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তবে এই প্রার্থীর নামও অনেকেই শোনেননি।”
গণ অধিকার পরিষদের রায়পুর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী জানান, আবুল বাশার বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন এবং দেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা ছিল, তবে পরে তিনি সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। ফলে নির্বাচনী এলাকার কোনো কার্যক্রম তার তরফ থেকে পরিচালিত হয়নি।
আবুল বাশারের ব্যক্তিগত মন্তব্য সংগ্রহের জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদি হাসান কাউছার জানান, তিনি প্রার্থীর প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেখেছেন এবং তার দাবিকে যুক্তিযুক্ত বলে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রার্থী যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, যেমন ট্রাক প্রতীকের অননুমোদিত ব্যবহার ও স্বাক্ষরের নকল, সেগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
এই পরিস্থিতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও প্রার্থীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পার্টির অভ্যন্তরে প্রার্থীর বিদেশে অবস্থান সত্ত্বেও মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভোটারদের বিশ্বাস ও পার্টির কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হওয়ার আগে, পার্টি কীভাবে এই প্রার্থীর প্রচারণা ঘাটতি পূরণ করবে এবং ভোটারদের কাছে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।
গণ অধিকার পরিষদ এখনো এই প্রার্থীর জন্য কোনো বিকল্প প্রচারমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করেনি, তবে নির্বাচনী কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে সব প্রার্থীর সমান সুযোগ থাকবে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল প্রত্যেক প্রার্থীর নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করা, যাতে তারা সচেতনভাবে ভোট দিতে পারে।



