বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের সময় কোনো নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। তিনি রাজধানীর মুগদা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উত্তরা হাজি ক্যাম্প এবং গাজীপুরের টঙ্গি এলাকায় অবস্থিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নির্বাচনী বেস ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এই সফরের সময় তিনি সদস্যদেরকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো গাফিলতি না করার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনের সময় মেজর জেনারেল সিদ্দিকী জোর দিয়ে বললেন, নির্বাচনের সময় যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গার্ড সদস্যদের কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সম্পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক। এই নির্দেশনা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সংখ্যক টহল চালু করা, চেকপোস্ট স্থাপন এবং তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশও মেজর জেনারেল সিদ্দিকী দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার ব্যবহার করতে সক্ষম করতে এই ব্যবস্থা অপরিহার্য। তাছাড়া, গার্ড সদস্যদের ভোটার ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে ভদ্র, মানবিক এবং দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখতে স্মরণ করিয়ে দেন।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এই ধরনের নিরাপত্তা নির্দেশনা পূর্বে ঘোষিত বিভিন্ন পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা হিসেবে প্রকাশ করেছে। পূর্বের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের আগে গার্ডের বিভিন্ন ইউনিটকে কৌশলগতভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মেজর জেনারেল সিদ্দিকীর এই মন্তব্যগুলো সেই প্রস্তুতিকে পুনরায় জোরদার করার লক্ষ্যে করা হয়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলোও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব স্বীকার করে গার্ডের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। যদিও কোনো দল সরাসরি মন্তব্য করেনি, তবে নির্বাচনের সময় শান্তি বজায় রাখতে গার্ডের সক্রিয় অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, গার্ডের কঠোর নির্দেশনা সম্ভাব্য বিরোধী গোষ্ঠীর কার্যকলাপকে নিরুৎসাহিত করবে এবং নির্বাচনের ফলাফলকে স্বচ্ছ রাখবে।
মেজর জেনারেল সিদ্দিকী ভবিষ্যতে গার্ডের সদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গার্ডের প্রতিটি সদস্যের ভূমিকা অপরিহার্য। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি গার্ডের অভ্যন্তরীণ মনোভাবকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসাধারণের আস্থা জোরদার করতে চান।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এই নির্দেশনা অনুসরণ করে নির্বাচনের পুরো সময়কালে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি চালিয়ে যাবে। গার্ডের টহল, চেকপোস্ট এবং তল্লাশি কার্যক্রমের মাধ্যমে যে কোনো অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত, মেজর জেনারেল সিদ্দিকীর এই নির্দেশনা নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়াবে।



