বুধবার সকালবেলায় সিরাজগঞ্জের ঝাঐল ইউনিয়নের ময়নাকান্দি গ্রামে জনতার ধাওয়া খেয়ে এক রাজনৈতিক নেতার তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ঘটনাটি স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু লোকের গোষ্ঠী নির্দিষ্ট একজনকে ঘিরে ধরেছে এবং তাকে তাড়া করার পর তিনি দ্রুত দৌড়ে দূরে সরে যান। তাড়া করা ব্যক্তির মুখে দৃশ্যমান উদ্বেগ দেখা যায়, আর গোষ্ঠীর কিছু সদস্য হাত বাড়িয়ে তাকে থামাতে চেয়েছে বলে মনে হয়।
ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি হলেন মোস্তাক সরকার, যিনি ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত-এ-ইসলামি শাখার আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্থানীয় পার্টির কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং নির্বাচনী সময়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
জামায়াত-এ-ইসলামির জেলা সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ-কামারখন্দ) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের প্রধান নির্বাচনি এজেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ভোটের আগে কেন্দ্রের খরচসহ নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়, যা কখনো কখনো কেন্দ্রের খরচের অংশ হিসাবেও বিবেচিত হতে পারে।
শহিদুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, সম্ভবত এই অতিরিক্ত আর্থিক দায়িত্বের ভয়ই মোস্তাক সরকারকে তাড়া থেকে পালাতে বাধ্য করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে ভোট কেনার কোনো তথ্যের সত্যতা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন।
অধিকন্তু, তিনি জানান যে কিছু সময়ে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতারা সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রীয় ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে থাকে। এই ধরনের আচরণ ভোটারদের স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শহিদুল ইসলাম জড়িত সকলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় থাকে।
এই ঘটনা ঘটার সময় দেশের বিভিন্ন জেলায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। সিরাজগঞ্জের এই ঘটনার ফলে জামায়াত-এ-ইসলামির স্থানীয় সংগঠনকে কঠোর নজরদারির মুখে দাঁড়াতে হচ্ছে।
মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণা দলও এই ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছে। দলটি বলছে, তারা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এমন ঘটনা পার্টির ইমেজে ক্ষতি করতে পারে এবং ভোটারদের বিশ্বাসকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে পার্টি নেতৃত্বের দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের কার্যকারিতা ভবিষ্যতে ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, জনতার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়া এবং ভোটারকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা যেতে পারে। স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে প্রমাণ সংগ্রহ এবং যথাযথ তদন্ত চালিয়ে যেতে হবে।
সারসংক্ষেপে, সিরাজগঞ্জের ঝাঐল ইউনিয়নে জামায়াত-এ-ইসলামির আমির মোস্তাক সরকারের উপর জনতার তাড়া এবং পালিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশের পর পার্টি ও প্রশাসন উভয়ই কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার লক্ষ্যে গৃহীত হবে।



