বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বুধবার বিকালে এক সরকারি বিবৃতিতে জানালেন, দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর শীর্ষ আলেম-ওলামা দলকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং এই সমর্থন দেশের ভোটারদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশাব্যক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি এই মন্তব্যের ভিত্তি হিসেবে সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য উল্লেখ করেন, যেখানে দেশের সব ধর্মীয় শাখার বিশিষ্ট ইসলামী নেতাদের সমর্থনবাণী তুলে ধরা হয়েছে।
বিভিন্ন দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় সংস্থার প্রধান আলেম-ওলামা একত্রে বিএনপির নীতি ও কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছেন। এই সংবাদগুলো দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, কারণ পূর্বে ধর্মীয় গোষ্ঠীর সমর্থন রাজনৈতিক পার্টিগুলোর মধ্যে তেমন স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়নি।
তারেক রহমানের বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আলেম-ওলামাদের এই স্পষ্ট অবস্থান ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী ভোটারদের মধ্যে অপপ্রচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি যুক্তি দেন, ধর্মীয় নেতাদের সমর্থন না থাকলে কোনো রাজনৈতিক দলই জনমতের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবে না। এদিকে, তিনি উল্লেখ করেন, এই সমর্থন দেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ধর্মীয় নেতাদের স্পষ্ট অবস্থান ভোটারদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সঠিক পথ দেখাবে। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, আলেম-ওলামাদের সমর্থন ভোটারদের মধ্যে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবে। এধরনের সমর্থন না থাকলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনিশ্চিত ও বিভ্রান্তিকর হতে পারে, এ কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান আলেম-ওলামাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, ভবিষ্যতেও ইসলামী নীতি-আধারিত দৃষ্টিকোণ থেকে দল-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তাদের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বিশেষভাবে পীর, মাশায়েখ, ইমাম ও খতিবদের সমর্থন ও পরামর্শের গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা দেশের সামাজিক সংহতি ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
বিএনপির এই মন্তব্যের পর, দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ধর্মীয় গোষ্ঠীর সমর্থন ভোটারদের মধ্যে দলীয় ধারণা পরিবর্তন করতে পারে এবং নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় সমর্থন শুধুমাত্র ভোটারদের নৈতিক দিকনির্দেশনা নয়, বরং রাজনৈতিক বিতর্কে অপপ্রচার ও গুজবের মোকাবিলায়ও সহায়তা করবে।
বৈধ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন, ধর্মীয় নেতাদের সমর্থন নিয়ে আলোচনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং নির্বাচনের আগে বিভিন্ন দলকে তাদের নীতি-পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের বিবৃতি দেশের শীর্ষ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সমর্থনকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তিনি আশাব্যক্তি প্রকাশ করেছেন, এই সমর্থন ভোটারদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এই সমর্থনের বাস্তব প্রভাব দেখার প্রধান মঞ্চ হবে।



