27 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসৌদি আরবে পারমাণবিক অস্ত্র, ইরানের প্রাক্তন আইআরজিসি কমান্ডার জানান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও...

সৌদি আরবে পারমাণবিক অস্ত্র, ইরানের প্রাক্তন আইআরজিসি কমান্ডার জানান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল জানে

ইরানের প্রাক্তন ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কমান্ডার হুসেইন কানানি রাশিয়া টুডে-কে ১০ ফেব্রুয়ারি দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সৌদি আরবে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং এই তথ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয়ই জানে।

কানানি উল্লেখ করেন, ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী প্রতিবাদে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার গোপন সহায়তা ছিল। উভয় সংস্থা প্রতিবাদকে চালিয়ে রাখতে বিভিন্ন উপায়ে সহায়তা করেছে, যার মূল লক্ষ্য কেবল সরকার পতন নয়, বরং ইরানকে সম্পূর্ণভাবে দুর্বল করে অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা থেকে সুবিধা নেওয়া।

ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই উত্তেজনা বাড়ে, এবং দ্বিতীয় মেয়াদে আরও তীব্র হয়। ট্রাম্পের শাসনামলে ইরান-ইসরাইল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি জড়িত হওয়া ২০২৫ সালের জুনে ঘটায়, যদিও পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি স্থাপিত হয়। তবে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনও স্বাভাবিক স্তরে ফিরে আসেনি।

গত ডিসেম্বর থেকে ইরানে সরকারবিরোধী প্রতিবাদ তীব্র হয়ে ওঠে, এবং নিরাপত্তা বাহিনী কঠোরভাবে দমন শুরু করে। এই সময়ে ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানে সামরিক হুমকি জানায়, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল চলছে, যা ইরানের নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলেছে।

৯ ফেব্রুয়ারি আইআরজিসি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূখণ্ডে আক্রমণ করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে মোবাইল মিসাইল লঞ্চার স্থাপন করে, যা ইরানের প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

কানানি আরও জানান, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তবে প্রথম পর্যায়ে ইরান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সরাসরি আক্রমণ না করে, বরং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেবে। তিনি ইরানের কৌশলগত অবস্থান ও সামরিক প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, ইরান তার স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, কানানির এই মন্তব্য ইরানের নিরাপত্তা নীতির একটি স্পষ্ট সংকেত, যেখানে পারমাণবিক ক্ষমতা ও আঞ্চলিক জোটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবের পারমাণবিক অস্ত্রের দাবি, যদিও কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ ছাড়া, তবু মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জ্ঞান এই বিষয়কে কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল করে তুলেছে।

অবশিষ্ট সময়ে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, এই বিবৃতি অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামোর উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে, এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সমঝোতা বা সংঘাতের সম্ভাবনা উভয়ই বাড়িয়ে তুলতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments