বুধবার ভোরবেলায় বানিয়াচং উপজেলার সুনারু গ্রামে অবস্থিত সুনারু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রের একটি কক্ষে অগ্নি সংযোগের প্রচেষ্টা করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় নাগরিকদের নজরে আসে এবং দ্রুতই তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দহনের ফলে কক্ষের দরজা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো বড় ক্ষতি রোধ করা যায়।
অগ্নিকাণ্ডের পরপরই পুলিশ ও ডিবি সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটিকে তৎক্ষণাৎ তদন্তের আওতায় রাখে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়।
বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী জানান, দুর্বৃত্তদের দ্বারা ভোটকেন্দ্রের এক কক্ষে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে ক্ষতি সীমিত থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় জনগণ দ্রুতই আগুন নেভিয়ে দেয় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকে।
একই দিনে হবিগঞ্জ-৩ আসনের জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট মোহাম্মদ হারুন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৩২টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে নির্বাচনের দিন এই কেন্দ্রগুলোতে অশান্তি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মোহাম্মদ হারুনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির কাজী মুখলিছুর রহমান এবং ১১ দলীয় জোটের নেতারা, যারা তালিকাভুক্ত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চেয়ে দাবি করেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন জানান, পূর্বেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এখন থেকে উল্লেখিত কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হবে। তিনি নিশ্চিত করেন, নির্বাচনের পূর্বে সকল সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্বাচনী দফতরগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ দল, ডিবি ইউনিট এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক সংস্থার সমন্বয় বাড়ানো হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কন্ট্রোল পয়েন্ট স্থাপন, প্রবেশদ্বার সুরক্ষিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হবিগঞ্জ-৩ আসনের রাজনৈতিক পরিবেশ সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র উত্তেজনার মুখে। জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদের প্রচারণা দল নির্বাচনী দিক থেকে সক্রিয়ভাবে নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ তুলে ধরছে, যা অন্য দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিকেও প্রভাবিত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ভোটারদের অংশগ্রহণে অনিচ্ছা সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। তাই নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার মূল চাবিকাঠি।
অধিকাংশ স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একমত যে, নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অখণ্ডতা রক্ষার জন্য অপরিহার্য। তারা বলছে, সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তদবির করা হবে।
সারসংক্ষেপে, বানিয়াচং উপজেলার ভোটকেন্দ্রের অগ্নিসংযোগের প্রচেষ্টা এবং ৩২টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করার অভিযোগ দুটোই নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা উদ্বেগকে বাড়িয়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবায়নই আগামী ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি হবে।



