অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী লিবারেল পার্টির প্রথম নারী নেতা সাসান লে শ্যাডো ডিফেন্স মন্ত্রী অ্যানগাস টেলরের হঠাৎ পদত্যাগের পর আবার রাজনৈতিক চাপের মুখে। টেলর বুধবার পার্টির শ্যাডো ক্যাবিনেট থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যদিও তিনি পার্টির সদস্য হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। তার এই পদক্ষেপ লিবেরাল-ন্যাশনাল জোটের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা ত্বরান্বিত করতে পারে।
টেলর, যিনি পার্টির রক্ষণশীল গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন, লে’র মডারেট শাখার সঙ্গে মতবিরোধের পর এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে লিবারেল পার্টি শ্রমিক সরকারের কার্যক্রম পর্যাপ্তভাবে তদারকি করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং দেশের জীবনযাত্রার মান পুনরুদ্ধারের জন্য তৎপরতা দরকার। এছাড়া তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে লে দলের নেতৃত্বে যথাযথভাবে কাজ করতে সক্ষম নন।
লিবারেল পার্টি গত বছর লে এবং টেলরের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার পর টেলরকে পরাজিত করে লে শীর্ষে আসেন। তবে সেই সময়ের সর্বোচ্চ ভোট হার পরাজয়ের পর পার্টি ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী সমর্থন পায় এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ বাড়ে। টেলরের পদত্যাগের ফলে শ্যাডো ক্যাবিনেটের অন্যান্য সদস্যদেরও পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে অনুমান বাড়ছে।
স্থানীয় মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, টেলরের সমর্থকরা এখন পার্টির অভ্যন্তরে একটি বিশেষ সভা আহ্বান করে নেতৃত্বের পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রস্তাব দিতে পারে। এই প্রস্তাবকে ‘স্পিল মোশন’ বলা হয়, যা পার্টির বর্তমান নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। যদি টেলর এই প্রক্রিয়ায় সফল হন, তবে লে’র নেতৃত্বের অস্থিরতা শেষ হতে পারে।
লিবারেল-ন্যাশনাল জোটের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ১৯৪০-এর দশকে গড়ে ওঠে, তবে লে’র শাসনামলে দুইবার বিচ্ছিন্নতা এবং পুনর্মিলন ঘটেছে। সর্বশেষ বিচ্ছিন্নতা কয়েক দিন আগে ঘটেছিল, যখন লে’র বন্ডি বিচের সন্ত্রাসী হামলার পর হেট স্পিচ আইন নিয়ে মতবিরোধে ন্যাশনাল পার্টি তার সমর্থন প্রত্যাখ্যান করেছিল।
বিচ্ছিন্নতার পর ন্যাশনাল পার্টির নেতা ডেভিড লিটলপ্রুড স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে তারা লে’র শ্যাডো ক্যাবিনেটে কাজ করতে পারবে না। তবে কয়েক দিন পর দু’টি দল আবার একত্রিত হয়ে শাসনামলে ফিরে আসে, যদিও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা কমেনি।
লিবারেল পার্টির অভ্যন্তরে টেলরের পদত্যাগকে নেতৃত্বের পুনর্গঠনের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সদস্যরা এখন লে’র নীতি ও কৌশলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং পার্টির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন আলোচনার দরজা খুলে দিতে পারে।
লিবারেল পার্টির সমর্থকরা ইতিমধ্যে টেলরের পদত্যাগের পর পার্টির অভ্যন্তরে একটি বিশেষ সভা আহ্বানের দাবি তুলেছেন। এই সভা যদি অনুষ্ঠিত হয়, তবে পার্টির শীর্ষে নেতৃত্বের পুনর্নির্বাচন হতে পারে, যা লে’র অবস্থানকে আরও দুর্বল করতে পারে।
লিবারেল পার্টির সাম্প্রতিক সমীক্ষা দেখায় যে লে’র জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাচ্ছে, যা তার নেতৃত্বের স্থায়িত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। টেলরের পদত্যাগের ফলে এই প্রবণতা ত্বরান্বিত হতে পারে, বিশেষ করে যখন রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সদস্যরা নেতৃত্বের পরিবর্তনের পক্ষে সাড়া দিচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, যদি টেলর স্পিল মোশনের মাধ্যমে নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে লিবারেল পার্টি শ্রমিক সরকারের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী বিরোধী অবস্থান নিতে পারে। তবে একই সঙ্গে পার্টির অভ্যন্তরে নতুন বিভাজনও উদ্ভব হতে পারে, যা জোটের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করবে।
লিবারেল পার্টি এখন পর্যন্ত টেলরের পদত্যাগের পর কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি, তবে পার্টির অভ্যন্তরে আলোচনার তীব্রতা বাড়ছে। লে’র দলীয় সমর্থকরা তার নেতৃত্বকে রক্ষা করার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে পারে, যদিও তার সমর্থন ভিত্তি ইতিমধ্যে ক্ষয়প্রাপ্ত।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে পার্টির অভ্যন্তরে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। যদি টেলর নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে সফল হন, তবে লিবারেল পার্টি নতুন নীতি ও কৌশল নির্ধারণের পথে অগ্রসর হতে পারে। অন্যদিকে, লে’র নেতৃত্ব যদি টিকে থাকে, তবে পার্টি অভ্যন্তরে পুনরায় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে।



