মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা দুই নম্বর ব্লকের রেজিনগর থানা, মরাদিঘী এলাকায় বাবরি মসজিদের নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টা থেকে দু’ঘণ্টা পর্যন্ত কোরআন তেলাওয়াতের পর মাটি খোঁড়ার মাধ্যমে ভিত্তি গড়ার কাজের সূচনা হয়। এই প্রকল্পটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে এবং এলাকার ধর্মীয় অবকাঠামোকে শক্তিশালী করতে লক্ষ্য রাখে।
মসজিদ নির্মাণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা এবং নাগরিকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। কোরআন তেলাওয়াতের পর সরাসরি মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হয়, যা ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রতীকী সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিতরা মসজিদের ভবিষ্যৎ গৌরবের জন্য প্রার্থনা করেন।
তৃণমূলের সাসপেন্ড বিধায়ক ও জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি) দলের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর নিজ হাতে মসজিদের ঢালাইয়ের মসলা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, কোরআন পাঠের পরই মসজিদের ভিত্তি গড়ার কাজ শুরু করা হয়েছে এবং এই উদ্যোগটি স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তার বক্তব্যে প্রকল্পের সময়সূচি ও বাজেটের বিষয়েও স্পষ্টতা প্রদান করা হয়।
কয়েক দিন আগে থেকেই বড় জেসিবি এবং পে-লোডারসহ মাটি খোঁড়ার যন্ত্রপাতি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এই আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে মাটি খোঁড়ার কাজ দ্রুততরভাবে চালু হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ নির্মাণের গতি বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাটি খোঁড়ার কাজের সঙ্গে সঙ্গে সাইটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সাময়িক কর্মী শিবির গঠন করা হয়েছে।
গত বছরের ৬ ডিসেম্বর মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের পর থেকে ইট, সিমেন্ট, বালি, লোহার রডসহ নির্মাণ সামগ্রী ক্রমাগত সাইটে পৌঁছাচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বহু স্বেচ্ছাসেবক তাদের বাড়ি থেকে ইট বহন করে সাইটে পৌঁছাচ্ছেন, যা প্রকল্পের প্রতি জনগণের উত্সাহের পরিচায়ক। সরবরাহ শৃঙ্খল সুষ্ঠুভাবে বজায় রয়েছে, ফলে নির্মাণের অগ্রগতি বাধাহীনভাবে চলতে পারে।
মসজিদের পরিকল্পিত পরিমাপ প্রায় ৩০০ ফুট চওড়া এবং ১৯ ফুট উচ্চতা, যার মূল গম্বুজের উচ্চতা ১৪ মিটার এবং চওড়া ৫ মিটার হবে। মোট নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা অনুমান করা হয়েছে। এই আয়তন ও ব্যয় স্থানীয় মসজিদ প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মসজিদ নির্মাণের সূচনা সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আনন্দের স্রোত বয়ে যায়। বহু মানুষ মুখে হাসি নিয়ে কাজের অগ্রগতি দেখছেন এবং ভবিষ্যৎ মসজিদকে ধর্মীয় ও সামাজিক সমাবেশের কেন্দ্র হিসেবে প্রত্যাশা করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত সেবা প্রদান করে অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বাড়াচ্ছে।
বাবরি মসজিদ নির্মাণের পরবর্তী ধাপ হিসেবে বৃহস্পতিবার ‘বাবরি যাত্রা’র সূচনা হবে। সকাল নয়টা নাগাদ নদীয়া জেলার পলাশী মনুমেন্ট থেকে যাত্রা শুরু হয়ে ২৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শুক্রবার রাতে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারে সমাপ্ত হবে। এই যাত্রা ধর্মীয় ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি প্রকল্পের সমর্থন বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, জনতা উন্নয়ন পার্টি (জেইউপি) এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ শক্তিশালী করতে চাচ্ছে। হুমায়ুন কবীরের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমর্থন দলকে ধর্মীয় বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ দিচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এই ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পকে ভোটারদের কাছে ইতিবাচক ইমেজ হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে।
অন্যদিকে, প্রতিবেশী রাজনৈতিক গোষ্ঠীও মসজিদ নির্মাণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের দিকে নজর দিচ্ছে। তারা উল্লেখ করেছে যে বৃহৎ ধর্মীয় কাঠামো এলাকার পর্যটন সম্ভাবনা বাড়িয়ে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে পারে। তবে প্রকল্পের ব্যয় এবং সময়সীমা সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় রাখার দাবি থেকেও কিছু সমালোচনা শোনা যায়।
মসজিদ নির্মাণের কাজ আনুমানিক দুই বছর সময়ে সম্পন্ন হবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্পন্ন হওয়ার পর এটি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের উপাসনা, শিক্ষা ও সামাজিক সমাবেশের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে এবং অঞ্চলের ধর্মীয় মানচিত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই প্রকল্পের সফলতা স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিদ্যায়ও প্রভাব ফেলবে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



