চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বুধবার দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ব্যবহৃত সরঞ্জাম বহনকারী গাড়ির চালকরা চার দিনের কাজের জন্য নির্ধারিত এক হাজার টাকার বরাদ্দকে অপ্রতুল বলে দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই প্রতিবাদে কয়েকশ চালক একত্রিত হয়ে তাদের পারিশ্রমিক বাড়িয়ে অন্তত তিন হাজার টাকা করার দাবি তুলে ধরেন এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো গাড়ি নির্বাচনি সরঞ্জাম কেন্দ্রে পাঠাবেন না বলে ঘোষণা দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা জানান, বিক্ষোভের সময় চালকরা কেন্দ্রীয় অফিসে উপস্থিত হয়ে তাদের আর্থিক সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং বর্তমান বরাদ্দের পরিমাণকে বর্তমান জীবনের খরচের সঙ্গে তুলনা করে অপ্রতুল বলে উল্লেখ করেন। চালকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য চার দিন কাজ করতে হবে, তবু প্রতিদিন মাত্র দুইশ পঞ্চাশ টাকা (মোট এক হাজার টাকা) প্রদান করা হয়েছে, যা তাদের পরিবারের খরচ মেটাতে যথেষ্ট নয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চালক সৌকিম চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনের জন্য আমরা চার দিন কষ্ট করবো, অথচ দেওয়া হবে মাত্র এক হাজার টাকা- এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের সংসার আছে, পরিবার আছে। এ বরাদ্দ দিয়ে চলা সম্ভব নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, চালকদের কাজের শারীরিক পরিশ্রম এবং দীর্ঘ সময়ের দায়িত্বের তুলনায় এই পরিমাণ পারিশ্রমিক অযৌক্তিক।
চালকদের দাবি শোনার পর স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ইউএনও হিকমা জানান, চালকদের আর্থিক উদ্বেগ বিবেচনা করে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রতিদিন পাঁচশ টাকা করে মোট দুই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন বরাদ্দের অর্থ প্রিজাইডিং অফিসারদের মাধ্যমে সরাসরি চালকদের কাছে পাঠানো হবে।
নতুন বরাদ্দের পর চালক মাসুদ হোসেন বলেন, “এখন যা বাড়ানো হয়েছে, তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে ন্যায্য পারিশ্রমিক না পেলে আমরা আর দায়িত্ব পালন করবো না।” তিনি এ কথায় ইঙ্গিত করেন যে ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে পারিশ্রমিকের কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বরাদ্দ বাড়ানোর পর বিকেল থেকে নির্বাচনি সরঞ্জাম গাড়িগুলো আবার কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়। চালকদের বিক্ষোভের ফলে নির্ধারিত সময়ে সরঞ্জাম পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও, প্রশাসনের দ্রুত প্রতিক্রিয়া কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করেছে।
ইউএনও হিকমা আরও জানান, নির্বাচনের শেষের দিকে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন হলে তা পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বরাদ্দের পরিমাণ ইতিমধ্যে চালকদের কাজের সময়সূচি এবং পারিশ্রমিকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নির্ধারিত হয়েছে।
এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট। নির্বাচনের সময় সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য চালকদের মত গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট স্টাফের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা না হলে ভোটের সময়সূচি এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের জন্য এই ধরনের শ্রমিক সমস্যার সমাধান দ্রুত করা একটি জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চাঁদপুরে এই বিক্ষোভের পরবর্তী ধাপ হবে নির্বাচনের শেষের পর চালকদের পারিশ্রমিকের কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার প্রতিরোধে স্পষ্ট নীতি নির্ধারণ। চালকদের দাবি মেনে বরাদ্দ বাড়ানো একটি সতর্ক সংকেত যে, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা অপরিহার্য।



