রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৫৪৬তম সিন্ডিকেট সভার পর এক সহকারী অধ্যাপককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগকারী একজন মহিলা শিক্ষার্থী, যিনি যৌন হয়রানি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ড. মো. দুলাল আলী মোল্লা, কৃষি ও কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এই সিদ্ধান্তটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযোগের গম্ভীরতা বিবেচনা করে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী যে অভিযোগ তুলে ধরেছেন, তাতে বলা হয়েছে যে, অধ্যাপক শিক্ষার্থীর প্রতি অনুপযুক্ত শারীরিক স্পর্শ এবং অশ্লীল মন্তব্য করেছেন। এছাড়াও তিনি মানসিক চাপ সৃষ্টি করার জন্য হুমকি ও অপমানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ আছে যে, নির্যাতনের কিছু ঘটনা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ঘটেছে।
সিন্ডিকেটের ৫৪৬তম সভা সোমবার রাতেই অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে এই অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যরা অভিযোগের প্রমাণ ও গম্ভীরতা মূল্যায়ন করে তৎকালীন সিদ্ধান্ত নেয়। সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক রিলেশনস অফিসের প্রেস রিলিজ উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেস রিলিজটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক রিলেশনস অফিসের প্রধান, প্রফেসর মো. আখতার হোসেন মজুমদার স্বাক্ষরিত। রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তটি অভিযোগের গম্ভীরতা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে এবং ন্যায়সঙ্গত তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অফিস অর্ডারটি কার্যনির্বাহী রেজিস্ট্রার প্রফেসর ইফতিখারুল ইসলাম মাসুদের স্বাক্ষরসহ জারি করা হয়েছে। অর্ডারে বলা হয়েছে যে, ড. দুলাল আলী মোল্লা তদন্ত চলাকালীন সব শিক্ষাগত ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। এছাড়া, অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অস্থায়ী বরখাস্তের অর্থ হল, অধ্যাপককে এখন থেকে কোনো ক্লাস, গবেষণা প্রকল্প বা বিভাগীয় সভায় অংশগ্রহণের অনুমতি নেই। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অফিসে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং তার শিক্ষাদানের দায়িত্ব অন্য কোনো সহকর্মীর কাছে অস্থায়ীভাবে হস্তান্তর করা হবে। এই ব্যবস্থা তদন্তের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সব দিক বিশ্লেষণ করবে। কমিটিতে আইনি বিশেষজ্ঞ, মানবসম্পদ কর্মকর্তা এবং শিক্ষাবিদ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাদের কাজ হবে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী শোনানো এবং প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনা করা। তদন্তের ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
অফিস অর্ডারে তদন্তের সম্পন্ন হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে যে, তদন্ত দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন হবে। সময়সীমা না জানার ফলে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। পূর্বে একই ধরনের অভিযোগের মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় নীতি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উদাহরণ রয়েছে। এই ঘটনা শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যদি কোনো শিক্ষার্থী অনুরূপ সমস্যার সম্মুখীন হন, তবে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত অভিযোগ ফর্মে লিখে সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়া উচিত। পাশাপাশি, ঘটনাস্থল ও সময়ের বিস্তারিত নথিভুক্ত করা এবং প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সতর্ক ও সহযোগী হতে হবে।
অধিক তথ্য প্রকাশ না হওয়া সত্ত্বেও, এই পদক্ষেপটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি অনুসারে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যাতে তারা কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণে মুখোমুখি হলে সঠিক চ্যানেলে অভিযোগ জানাতে পারে।



