বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জেনারেশন Kplus বিভাগে ১৪ ফেব্রুয়ারি গুগু’স ওয়ার্ল্ড চলচ্চিত্রের বিশ্বপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। আলান ডেবের্টন পরিচালিত এই বর্ণনা-চিত্রটি ব্রাজিলের এক ছোট গ্রামাঞ্চলে বসবাসরত ১২ বছর বয়সী গুগু নামের শিশুর জীবনের সূক্ষ্ম দিকগুলোকে তুলে ধরে। গুগু ফুটবল খেলোয়াড় হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, তার দুনিয়া তার দাদী দিলমার সঙ্গে ভাগ করা নিরাপদ কোণায় সীমাবদ্ধ, যেখানে তিনি উষ্ণতা ও মুক্তমনা স্বভাবের মাধ্যমে শিশুটিকে নিজের মতো হতে সুযোগ দেন।
গুগু’স ওয়ার্ল্ডের কাহিনী একটি শুকিয়ে যাওয়া জলাধারের তীরে অবস্থিত গ্রামকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করে, যেখানে পানির স্তর কমে যাওয়ায় ডুবে থাকা পুরনো শহরের অবশিষ্টাংশ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। এই পরিবেশের মধ্যে গুগু এবং তার দাদীর সম্পর্কের মর্মস্পর্শী বন্ধন গুগুর পিতার এবং আশেপাশের সমাজের অস্বীকৃতি থেকে দুজনকে রক্ষা করে। তবে দাদীর স্বাস্থ্যের অবনতি এবং পরিবেশের পরিবর্তন ধীরে ধীরে তাদের শান্তিপূর্ণ রুটিনকে নাড়া দেয়।
দাদী দিলমা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুগু তার একমাত্র নিরাপদ আশ্রয় হারানোর ভয় পায়। সেই ভয় তাকে তার এবং দাদীর জগতকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য দৃঢ় সংকল্প গড়ে তোলে। গুগুর এই অভ্যন্তরীণ সংগ্রাম এবং তার অমলিন স্নেহের গল্পটি চলচ্চিত্রের মূল থিম হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
চিত্রের প্রধান চরিত্রে ইউরি গোমেস গুগু হিসেবে, টেকা পেরেইরা দিলমা হিসেবে, এবং লাজারো রামোস বাবা ব্যাটিস্টা হিসেবে অভিনয় করেছেন। পাশাপাশি কার্লোস ফ্রান্সিসকো এবং জর্জিনা কাস্ট্রোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্ক্রিপ্টটি আন্দ্রে আরাউজো রচিত, যা গুগুর অন্তর্নিহিত পরিচয় ও তার আশেপাশের সামাজিক কাঠামোর মধ্যে সংঘর্ষকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করে।
প্রযোজনা দায়িত্বে রয়েছে বায়োনিকা ফিলমেস এবং ডেবের্টন ফিলমেস, যেখানে বিশ্ব বিক্রয় পরিচালনা করে m-appeal। চলচ্চিত্রটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিস্তৃত দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর জন্য এই সংস্থাগুলি সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
ট্রেলারটি থিয়েটার রিভিউ (THR) এর এক্সক্লুসিভ প্রকাশের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে গুগু’স ওয়ার্ল্ডের নরমতা ও সংবেদনশীলতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। দৃশ্যাবলি, সাউন্ডস্কেপ এবং নৃত্যের মাধ্যমে নির্মাতারা দর্শকদেরকে একটি স্বপ্নময় জগতে নিমজ্জিত করার চেষ্টা করেছেন।
ডেবের্টন চলচ্চিত্রের সৃষ্টিকর্মের পেছনের প্রেরণা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছু ধারণা শেয়ার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে গুগুর চরিত্রে এমন একটি তরুণের আকর্ষণীয় উপস্থিতি খুঁজে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যিনি নিজের পরিচয়কে শব্দে প্রকাশ করতে পারেন না, তবু তার অঙ্গভঙ্গি ও আচরণে তা প্রকাশ পায়।
চলচ্চিত্রের সঙ্গীত নির্বাচনেও বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে গল্পের মর্মবোধকে সমর্থন করে এমন সুরের মাধ্যমে পরিবেশের গন্ধ ও সময়ের প্রবাহকে ফুটিয়ে তোলা যায়। স্থানীয় বাদ্যযন্ত্র এবং আধুনিক সাউন্ড ডিজাইনের সমন্বয় চলচ্চিত্রের আবেগময় স্তরকে সমৃদ্ধ করেছে।
ডেবের্টন উল্লেখ করেন যে গুগু’স ওয়ার্ল্ডের নির্মাণে স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতা অপরিহার্য ছিল। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কাজ করে প্রকৃত পরিবেশের স্বাদ ও স্থানীয় সংস্কৃতির সূক্ষ্মতা ক্যামেরায় ধরা সম্ভব হয়েছে। এই সমন্বয় চলচ্চিত্রকে কেবল একটি গল্প নয়, বরং একটি সামাজিক নথি হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
বার্লিন উৎসবে চলচ্চিত্রের বিশ্বপ্রদর্শনী গুগু’স ওয়ার্ল্ডকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি করাবে, যেখানে বিভিন্ন দেশের দর্শক ও সমালোচকরা ব্রাজিলের গ্রামীণ জীবনের বাস্তবতা ও তরুণ লিঙ্গ পরিচয়ের সূক্ষ্ম দিকগুলো পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবে।
উৎসবের জেনারেশন Kplus বিভাগটি মূলত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য তৈরি, তাই গুগু’স ওয়ার্ল্ডের মতো সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক থিমের চলচ্চিত্র এখানে বিশেষ মনোযোগ পাবে। এই বিভাগে প্রদর্শিত হওয়া চলচ্চিত্রগুলো সাধারণত সামাজিক বার্তা বহন করে এবং তরুণ দর্শকদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করে।
চলচ্চিত্রের মুক্তির পর গুগু’স ওয়ার্ল্ডকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ব্রাজিলীয় স্বতন্ত্র গল্পকে বিশ্বমঞ্চে আরও দৃঢ় করে তুলবে। দর্শকরা গুগুর যাত্রা, তার দাদীর স্নেহ এবং তার নিরাপদ জগতের রক্ষার সংগ্রামকে হৃদয়গ্রাহীভাবে উপভোগ করতে পারবেন।
গুগু’স ওয়ার্ল্ডের এই সূক্ষ্ম ও মানবিক চিত্রনাট্য, তার দৃশ্যমান সৌন্দর্য এবং সঙ্গীতের সমন্বয় একত্রে একটি স্মরণীয় চলচ্চিত্র অভিজ্ঞতা প্রদান করবে, যা তরুণ দর্শকদের আত্ম-অন্বেষণ ও সামাজিক সহনশীলতার পথে অনুপ্রেরণা জোগাবে।



