ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিসে ২০০ের বেশি সহকারী রেজিস্ট্রার ও সমমানের কর্মকর্তাকে পদোন্নতির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০ সালের কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতির সীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রেজিস্ট্রার অফিসের সূত্র অনুযায়ী, এই প্রস্তাবটি ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ আবেদন আহ্বান করার পর গৃহীত হয়েছে।
২০২০ সালের নীতি অনুযায়ী, সহকারী রেজিস্ট্রার পদে মোট অনুমোদিত সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই প্রতি বছর ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে উন্নীত করা যায়। নীতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, প্রতি বছর সর্বোচ্চ ২১ জন সহকারী রেজিস্ট্রার বা সমমানের কর্মকর্তা পদোন্নতি পেতে পারে। এই সীমা নিশ্চিত করার জন্য রেজিস্ট্রার অফিসে মোট ১২টি সহকারী রেজিস্ট্রার পদ অনুমোদিত, যার মধ্যে প্রতি বছর সর্বোচ্চ চারজনকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে উন্নীত করা যায়। রেজিস্ট্রার অফিসের বাইরে সমমানের ৫১টি পদ রয়েছে, যার মধ্যে প্রতি বছর ১৭ জনকে উন্নীত করা অনুমোদিত।
তবে বর্তমান প্রস্তাবনা অনুযায়ী ২০৭ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পাবে, যা অনুমোদিত সীমার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই সংখ্যা নীতির নির্ধারিত ২১ জনের চেয়ে দশ গুণের বেশি, ফলে নীতি লঙ্ঘনের প্রশ্ন তীব্র হয়ে উঠেছে। রেজিস্ট্রার অফিসের অভ্যন্তরে ও বাহিরে উভয় ক্ষেত্রেই এই অতিরিক্ত পদোন্নতি পরিকল্পনা অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করছে।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালে রেজিস্ট্রার অফিসে পদোন্নতির জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সূত্রগুলো জানায়, পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ শাসনকালে অনেক কর্মচারী পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, যা বর্তমান পদক্ষেপের পেছনে প্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন প্রশাসন অতীতের অবিচার সংশোধনের লক্ষ্যে বৃহৎ পরিসরের পদোন্নতি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
নতুন পদোন্নতি নীতি প্রণয়নের কাজ চললেও, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়নি। ফলে, বিদ্যমান নীতির সীমা অতিক্রম করে পদোন্নতি করা হলে তা নীতিগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। এই প্রেক্ষাপটে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই প্রস্তাবনা অনুমোদন করে। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য প্রফেসর নিয়াজ আহমেদ খান, যিনি প্রস্তাবিত ১৮৭ জন কর্মকর্তার পদোন্নতি অনুমোদনের রিপোর্ট স্বাক্ষর করেন।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর, একই সপ্তাহে অতিরিক্ত ২০ জন কর্মকর্তার পুনর্বিবেচনার আবেদনও গ্রহণ করা হয়। এই আবেদনগুলোকে বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত মোট কতজনকে পদোন্নতি দেওয়া হবে তা নির্ধারণ করা হবে।
পদোন্নতি বোর্ডের সাক্ষাৎকারের সময়সূচি ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। সাক্ষাৎকারের ফলাফল সিন্ডিকেটের অনুমোদন পেলে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মশক্তিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে।
কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, যদি নীতির সীমা অতিক্রম করে পদোন্নতি কার্যকর করা হয়, তবে তা ভবিষ্যতে অনুরূপ অনিয়মের পথ প্রশস্ত করতে পারে। এছাড়া, নীতি লঙ্ঘনের ফলে কর্মচারী মোরাল ও প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা প্রভাবিত হতে পারে। এই উদ্বেগগুলোকে বিবেচনা করে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শাসন কাঠামোতে নীতি অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
পাঠকগণ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মশক্তি ব্যবস্থাপনা ও নীতি প্রয়োগ সম্পর্কে আরও জানার ইচ্ছা রাখেন, তবে রেজিস্ট্রার অফিসের অফিসিয়াল নোটিশ ও সংশ্লিষ্ট নীতির পূর্ণ পাঠ্য পর্যালোচনা করা উপকারী হবে। আপনার মতামত বা প্রশ্ন থাকলে মন্তব্যে জানাতে পারেন, যাতে এই ধরনের বিষয়ের উপর আরও আলোচনা সম্ভব হয়।



