ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের প্রাক্তন কোর আইআরজিসি কমান্ডার হোসেন কানানি রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম আরটি-কে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, সৌদি আরবের কাছে বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এবং এই তথ্য মার্কিন সরকার সম্পূর্ণভাবে জানে। তিনি রিয়াদের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দাবি করেন যে, ইসরায়েল ও ওয়াশিংটন উভয়ই এই সত্যটি গোপন রাখছে।
কানানি উল্লেখ করেন যে, তার হাতে থাকা গোয়েন্দা ডেটা অনুযায়ী সৌদি আরব ইতিমধ্যে পারমাণবিক বোমা অর্জন করেছে এবং এই অস্ত্রের মালিকানা রিয়াদের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিতভাবে জানেন। তিনি যুক্তি দেন যে, এই তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার পেছনে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কৌশলগত স্বার্থ কাজ করছে।
প্রাক্তন কমান্ডার আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার জন্য মোসাদ ও সিআইএ-র মতো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই সংস্থাগুলো ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে দুর্বল করতে বিভিন্ন গোপন অপারেশন চালিয়ে আসছে, যা দেশের অভ্যন্তরে অশান্তি বাড়িয়ে তুলছে।
ইস্রায়েল ও মার্কিন সরকারের গোপনীয়তা বজায় রাখার পাশাপাশি, কানানি যুক্তি দেন যে, সৌদি আরবের পারমাণবিক সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ভারসাম্যকে নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন করতে পারে। তিনি সতর্ক করেন যে, এই অস্ত্রের উপস্থিতি অঞ্চলে নতুন প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের আহ্বান জানাবে এবং পারস্পরিক সন্দেহ বাড়িয়ে তুলবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীসহ শক্তিশালী নৌবহর মোতায়েন করেছে। এই নৌবহরের মধ্যে একাধিক ধ্বংসাত্মক জাহাজ, সাবমেরিন এবং এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার অন্তর্ভুক্ত, যা অঞ্চলের সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে তুলেছে।
এই নৌবহর মোতায়েনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উদ্বেগকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন সরকার রিয়াদের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে জানার পর, তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি কমাতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, সৌদি আরবের পারমাণবিক অস্ত্রের উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি গঠনে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। ইরান, ইসরায়েল এবং অন্যান্য আঞ্চলিক খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ বাড়বে এবং সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়বে যাতে সৌদি আরব এই অস্ত্রের মালিকানা স্বীকার না করে বা তা প্রত্যাহার না করে।
অবশেষে, কানানির এই দাবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে বিকশিত হবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও শক্তিগুলো কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও সামরিক গতিপথকে নির্ধারণ করবে।



