27 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিভারতে সামাজিক মিডিয়া ও এআই কন্টেন্টে ৩ ঘণ্টার টেকডাউন বাধ্যতামূলক

ভারতে সামাজিক মিডিয়া ও এআই কন্টেন্টে ৩ ঘণ্টার টেকডাউন বাধ্যতামূলক

ভারত সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন নির্দেশিকা কার্যকর করেছে, যার মাধ্যমে সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবৈধ কন্টেন্টের নোটিশ পাওয়ার পর তিন ঘণ্টার মধ্যে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। এই সময়সীমা পূর্বে নির্ধারিত ৩৬ ঘণ্টা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।

নতুন বিধানটি মেটা, ইউটিউব এবং এক্সসহ প্রধান সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোকে প্রযোজ্য হবে এবং একই সঙ্গে এআই-উৎপন্ন কন্টেন্টের ওপরও প্রয়োগ করা হবে। সরকার এই পরিবর্তনের পেছনের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি।

এই নিয়মের অধীনে, এআই দ্বারা তৈরি বা পরিবর্তিত অডিও ও ভিডিও, যার মধ্যে ডিপফেকসের মতো বাস্তবিক দেখাতে সক্ষম কন্টেন্ট অন্তর্ভুক্ত, তা স্পষ্টভাবে লেবেল করা বাধ্যতামূলক। সাধারণ সম্পাদনা, প্রবেশযোগ্যতা ফিচার বা শিক্ষামূলক ও নকশা কাজকে এই সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

প্ল্যাটফর্মগুলোকে এআই-উৎপন্ন কন্টেন্টে লেবেল যুক্ত করার পাশাপাশি, সম্ভব হলে স্থায়ী চিহ্ন (মার্কার) যোগ করতে হবে, যাতে মূল উত্স ট্র্যাক করা যায়। একবার লেবেল যুক্ত হলে তা মুছে ফেলা যাবে না, এবং লেবেল অপসারণের কোনো অনুমতি থাকবে না।

এছাড়া, সামাজিক মিডিয়া সেবাদাতাদের স্বয়ংক্রিয় টুল ব্যবহার করে অবৈধ এআই কন্টেন্ট সনাক্ত ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে প্রতারণামূলক, অঅনুমোদিত বা ভুয়া নথি সহ অন্যান্য অনধিকারপূর্ণ কন্টেন্ট অন্তর্ভুক্ত।

সরকারের পক্ষ থেকে টেকডাউন সময়সীমা হ্রাসের পেছনে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকলেও, বিশ্লেষকরা এটিকে অনলাইন কন্টেন্টের তদারকি শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। বিশেষত, একশো কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বিশিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপের প্রভাব ব্যাপক হতে পারে।

বিরোধী গোষ্ঠী ও সাইবার আইন বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত টেকডাউন প্রক্রিয়া স্বেচ্ছাচারী সেন্সরশিপের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তারা উল্লেখ করেন, স্বল্প সময়ে কন্টেন্ট সরিয়ে ফেললে ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় এবং প্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।

গত কয়েক বছরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি আইন ব্যবহার করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর সামাজিক মিডিয়ায় অবৈধ বলে চিহ্নিত কন্টেন্ট মুছে ফেলার আদেশ দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্ল্যাটফর্মগুলোকে সরকারী নোটিশের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়।

স্বচ্ছতা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সরকারী অনুরোধে ২৮,০০০ের বেশি ইউআরএল বা লিংক ব্লক করা হয়েছে। এই সংখ্যা নির্দেশ করে যে, অনলাইন কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

বিবিসি ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই পরিবর্তন সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করেছে, তবে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। মেটা এই সংশোধনী নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে, এবং এক্স ও গুগল (যা ইউটিউবের মালিক)কেও একইভাবে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।

নতুন বিধানটি এআই-উৎপন্ন কন্টেন্টের লেবেলিং ও ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি, অবৈধ কন্টেন্টের স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণে প্রযুক্তিগত দায়িত্ব আরোপ করে। এটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য একটি নতুন সম্মতি স্তর তৈরি করবে।

সামাজিক মিডিয়া ও এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে, এই ধরনের নিয়মের প্রয়োগ কীভাবে ব্যবহারকারীর অধিকার ও নিরাপত্তার মধ্যে সমতা বজায় রাখবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments