ব্রাইটনের প্রধান কোচ ফ্যাবিয়ান হুর্জেলারকে শেষ সপ্তাহগুলোতে বাড়তে থাকা সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সাউথ কোস্টের ভক্তদের অসন্তোষের স্রোত, ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মন্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে, দলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রধান নির্বাহী পল বারবারের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ফুটবলের বিস্তৃত পরিসরে ভক্তদের ধৈর্য দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এই মন্তব্যটি ক্রিস্টাল প্যালেসের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচের আগে প্রকাশিত হয়, যখন ব্রাইটনের পারফরম্যান্স নিয়ে ইতিমধ্যে তীব্র সমালোচনা গুঞ্জন তুলছিল।
গত বসন্তে, হুর্জেলারের দল চারটি প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট সংগ্রহ করে এবং এফএ কাপের ষষ্ঠ রাউন্ডে বাদ পড়ে। সেই সময় থেকে ভক্তদের মধ্যে পরিবর্তনের দাবি ক্রমশ বাড়তে থাকে, যদিও মৌসুমের শুরুর দিকে কিছু উন্নতি দেখা গিয়েছিল।
ডিসেম্বরে ধারাবাহিকভাবে কোনো জয় না পেয়ে, ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক সপ্তাহে ব্রাইটন আবার হতাশার মুখে পড়ে। ২৪ জানুয়ারি ফুলহ্যামের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে হারের পর, কিছু ভক্ত দলকে তীব্র নিন্দা করেন এবং দূরবর্তী সমর্থকদের দ্বারা বু ও চিৎকার শোনা যায়।
ফুলহ্যামের বিরুদ্ধে ম্যাচে ব্রাইটন ৭২তম মিনিট পর্যন্ত নেতৃত্বে ছিল, তবে শেষের দিকে গোলের পরিণতি বদলে যায়। এই পরাজয় পরবর্তী সপ্তাহে এভারটনের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সময় আরও তীব্রতা পায়।
এভারটনের সঙ্গে ম্যাচে, হুর্জেলার জেমস মিলনারকে ৬৫২তম প্রিমিয়ার লীগ উপস্থিতিতে পরিবর্তন করেন। মিলনারের পরিবর্তনই শেষের সময়ে সমতা বজায় রাখার মূল কারণ বলে ভক্তরা মনে করেন, যদিও ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-০ স্কোরে এভারটনের পক্ষে শেষ হয়।
ক্রিস্টাল প্যালেসের সঙ্গে ১-০ হারের পর, হুর্জেলারের উপর সমালোচনা শীর্ষে পৌঁছায়। ত্রিপল পরিবর্তনের সময় ক্যারলস বালেবাকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে, ভক্তদের মধ্যে “আপনি কী করছেন?” চিৎকার শোনা যায়। বালেবার পারফরম্যান্স তেমন না হলেও, তার পরিবর্তনকে তীব্র সমালোচনার মুখে দেখা যায়।
ম্যাচের শেষে, অ্যামেক্স স্টেডিয়ামে উপস্থিত কিছু ভক্ত “আপনি সকালে চাকরি হারাবেন” এমন নিনাদে চিৎকার করে। হুর্জেলার টানেল দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় এই চিৎকারগুলো শোনা যায়, যা ক্লাবের অভ্যন্তরে চাপের মাত্রা প্রকাশ করে।
ক্লাবের মালিক টনি ব্লুম এবং প্রধান নির্বাহী পল বারবারের মতে, ২৫,০০০ ভক্তের চাহিদা ও গানের স্রোতকে উপেক্ষা করা কঠিন। তারা স্বীকার করেন, ভক্তদের এই রকম চিৎকার ও নিনাদ দলকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।
ব্রাইটনের বর্তমান অবস্থার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দলটি প্রিমিয়ার লীগে চারটি ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে এবং এফএ কাপের ষষ্ঠ রাউন্ডে বাদ পড়েছে। এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে সাম্প্রতিক দুইটি পরাজয়—ফুলহ্যাম এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে—দলকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
ভবিষ্যৎ ম্যাচের সূচি অনুযায়ী, ব্রাইটন শীঘ্রই আবার এভারটনের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যেখানে জেমস মিলনারের পরিবর্তন নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন উঠবে। এছাড়া, পরবর্তী সপ্তাহে ক্রিস্টাল প্যালেসের সঙ্গে পুনরায় মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা হুর্জেলারের জন্য আরেকটি কঠিন পরীক্ষা হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ব্রাইটনের অভ্যন্তরে কোচের অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভক্তদের চিৎকার, ক্লাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উদ্বেগ এবং ধারাবাহিক ফলাফলের অভাব একসাথে হুর্জেলারের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ক্লাবের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এখনো অনিশ্চিত, তবে ভক্তদের চাহিদা ও প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে।



