বনানী, ঢাকা – আজ বিকেলে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বাংলাদেশ অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) প্রতিষ্ঠিত “ফ্রি অ্যানিমাল ক্লিনিক” উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পার্টির কর্মকর্তাবৃন্দ ও বাওয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাওয়া কর্তৃক গড়ে তোলা এই ক্লিনিকটি প্রাণী চিকিৎসা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পরামর্শ প্রদানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হবে। ক্লিনিকের অবকাঠামোতে আধুনিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত পশু চিকিৎসক যুক্ত রয়েছে।
ক্লিনিকের মূল উদ্দেশ্য হল পোষা প্রাণী ও রাস্তার কুকুর-বিড়ালের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা। এতে রোগ নির্ণয়, টিকাদান, জরুরি সেবা এবং পোষা প্রাণীর সঠিক যত্নের নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত।
প্রাণী কল্যাণের প্রতি বাড়তে থাকা জনসচেতনতা এবং শহরের প্রাণীজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাওয়ার প্রতিনিধিরা ক্লিনিকের বিনামূল্যে সেবা প্রদান এবং পেশাদার পশু চিকিৎসা সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সংগঠনটি উল্লেখ করে যে ক্লিনিকটি শুধুমাত্র চিকিৎসা নয়, প্রাণী পালন সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক যত্নের পদ্ধতি শেখার কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণী কল্যাণের এই প্রকল্পটি বিএনপি’র জন্য শহুরে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে। বৈধ ও সামাজিক দায়িত্বের মাধ্যমে পার্টির ইতিবাচক চিত্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই ধরনের সামাজিক প্রকল্পগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, শাসনকর্তা আওয়ামী লীগ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে শহরের প্রাণী স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পূর্ববর্তী উদ্যোগের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
বিএনপি’র এই উদ্যোগের ফলে পার্টির সামাজিক দায়িত্বের প্রতি জনমত ইতিবাচক হতে পারে এবং শহরের মধ্যবিত্ত ও তরুণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বাওয়া ভবিষ্যতে ঢাকার অন্যান্য এলাকায় সমান ধরনের ক্লিনিক স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে শহরের সব কোণায় প্রাণী স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে পারে।
বিনামূল্যে সেবা প্রদান করে রাস্তার প্রাণীর রোগের বিস্তার কমে আসা এবং মানব-প্রাণী সংস্পর্শে রোগের ঝুঁকি হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সূচনা নয়, বরং রাজনৈতিক দলকে সামাজিক সমস্যার সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহিত করার একটি বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ অ্যানিমাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ২০১৫ সালে গৃহীত হয় এবং দেশের প্রাণী কল্যাণ উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করেছে। সংস্থাটি প্রাণী অধিকার, অবহেলিত প্রাণীর সুরক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে।
ঢাকা শহরে অনুমানিকভাবে লক্ষ লক্ষ কুকুর ও বিড়াল বাস করে, যার বেশিরভাগই সঠিক চিকিৎসা ও টিকাদান পায় না। পূর্বে রোগের বিস্তার এবং মানব-প্রাণী সংস্পর্শে রোগের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
ফ্রি ক্লিনিকের নির্মাণ ও সরঞ্জাম ক্রয় মূলত বাওয়া ও স্বেচ্ছাসেবী দাতাদের আর্থিক সহায়তায় সম্পন্ন হয়েছে। পার্টির কোনো সরাসরি তহবিলের উল্লেখ না থাকলেও, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত পার্টি নেতারা সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
উদ্বোধনের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাণীপ্রেমীরা ক্লিনিকের সেবা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন, বিশেষ করে পোষা প্রাণীর মালিকরা বিনামূল্যে টিকাদান ও জরুরি সেবার সুবিধা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
আগামী মাসে ঢাকা শহরে পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে; এই ধরনের সামাজিক প্রকল্পগুলোকে ভোটারদের কাছে দৃশ্যমান করে পার্টি তার জনপ্রিয়তা বাড়াতে চায়। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, প্রাণী কল্যাণের উদ্যোগগুলোকে ভোটারদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে।



