ঢাকা‑টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৩৬,৯২৩টি গাড়ি-যানবাহন পার হয়েছে এবং টোল রসিদে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৭১ হাজার ৬৫০ টাকার বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। এই তথ্য সেতু কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত রেকর্ড থেকে নেওয়া।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ত্রয়োদশ পর্যায়ের ছুটির দিনগুলোতে গ্রাম-শহর পারাপার বাড়ার ফলে সেতুর উপর গাড়ির চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মজীবী মানুষদের গ্রামভ্রমণ এবং ছুটির শেষের দিকে শহরে ফিরে আসা এই প্রবাহকে ত্বরান্বিত করেছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের দিকে যাত্রা করা ২৩,৯৮৯টি যানবাহন টোল থেকে ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯০০ টাকা সংগ্রহ করেছে। একই সময়ে ঢাকায় গমনকারী ১২,৯৩৪টি গাড়ি-যানবাহন থেকে ১ কোটি ১৯ লাখ ৭৬ হাজার ৭৫০ টাকা টোল রসিদে যুক্ত হয়েছে।
সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে, বিশেষ করে মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত গাড়ি-যানবাহনের চাপের ফলে সেতু ও মহাসড়কে সাময়িক জ্যাম দেখা যায়। তবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারী কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে গতি পুনরুদ্ধার হয় এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
বর্তমানে সেতু ও সংলগ্ন মহাসড়কের গতি স্বাভাবিক হিসেবে রেকর্ড করা হচ্ছে, কোনো বড় ধরণের বাধা বা বন্ধের তথ্য পাওয়া যায়নি। গাড়ি চালকদের জন্য চলাচল সহজতর হয়েছে এবং টোল সংগ্রহের হারও স্থিতিশীল রয়েছে।
বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই রেকর্ডেড গাড়ি-যানবাহনের সংখ্যা এবং টোল আয়ের বৃদ্ধি সেতু পরিচালনাকারী সংস্থার আর্থিক অবস্থার জন্য ইতিবাচক সূচক। ছুটির দিনগুলোতে ট্রাফিকের তীব্রতা বাড়ার ফলে টোল রেভিনিউতে প্রায় ২০% বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে তহবিল সরবরাহে সহায়ক।
পরিবহন সেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর জন্যও এই সময়কালটি লাভজনক, কারণ গাড়ি-যানবাহনের প্রবাহ বাড়ার ফলে লোডিং-আনলোডিং, পণ্য পরিবহন এবং জ্বালানি ব্যবহারে চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ফলে ফুয়েল বিক্রয় এবং রোড সাপোর্ট সেবার আয়েও সামান্য বাড়তি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনী ছুটির পর গাড়ি-যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক স্তরে ফিরে আসবে, তবে ধীরে ধীরে পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে যখন গ্রামীণ এলাকায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় হবে। সুতরাং সেতু কর্তৃপক্ষের জন্য ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং টোল সংগ্রহের সিস্টেমকে আরও স্বয়ংক্রিয় ও দক্ষ করার প্রয়োজনীয়তা থাকবে।
সামগ্রিকভাবে, যমুনা সেতুতে এই ২৪ ঘণ্টার ডেটা ট্রাফিক প্রবাহের চাহিদা এবং টোল রাজস্বের সরাসরি সম্পর্ককে স্পষ্ট করে। ভবিষ্যতে ছুটির দিন বা বিশেষ ইভেন্টের সময়ে সেতুর ব্যবহার বাড়তে পারে, যা পূর্ব পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরবে।
সংক্ষেপে, নির্বাচনী ছুটির কারণে গাড়ি-যানবাহনের প্রবাহে তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে, টোল সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে এবং বর্তমান ট্রাফিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। এই প্রবণতা সেতু পরিচালনাকারী সংস্থার আর্থিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি পরিবহন খাতের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



