রাশিয়ার ড্রোন আক্রমণ রাশিয়ার উত্তর-পূর্বের খারকিভ অঞ্চলকে লক্ষ্য করে, যেখানে বোহোদুখিভ শহরের একটি বাড়ি ধ্বংস হয়ে চারজনের মৃত্যু ঘটেছে, তাতে দুই বছর বয়সী দুইটি ছেলে, এক বছর বয়সী একটি মেয়ে এবং ৩৪ বছর বয়সী একজন পুরুষ অন্তর্ভুক্ত। একই আক্রমণে ৩৫ বছর বয়সী গর্ভবতী এক নারী এবং ৭৩ বছর বয়সী আরেকজন নারী আহত হয়েছেন।
বোহোদুখিভ, যা খারকিভের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত, রাশিয়ার প্রায় প্রতিদিনের বোমা হামলার শিকার হয়ে আসছে। স্থানীয় জরুরি সেবা প্রধান ওলেহ সিনেগুবভের মতে, ড্রোনের আঘাতে বাড়ির ছাদ ভেঙে গিয়ে ভিতরের কাঠামো ধসে পড়ে, ফলে পরিবারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। মৃতদের মধ্যে দুইটি দুই বছর বয়সী ছেলে, এক বছর বয়সী মেয়ে এবং ৩৪ বছর বয়সের একজন পুরুষ অন্তর্ভুক্ত, আর আহতদের মধ্যে গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধা নারী রয়েছে।
এই আক্রমণটি রাশিয়ার এক সপ্তাহের আকাশবাণিজ্যিক বিরতির পর পুনরায় শুরু হওয়া হামলার অংশ, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে রাখা হয়েছিল। শীতের তীব্রতা ইউক্রেনকে প্রভাবিত করার সময় রাশিয়া আবার বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে সমালোচনা করেছেন এবং রাশিয়াকে অবিলম্বে সশস্ত্র হামলা বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ববর্তী আহ্বান সত্ত্বেও রাশিয়া কোনো স্পষ্ট শর্ত পূরণ করেনি, ফলে শীতের সময়ে ইউক্রেনের নাগরিকদের সুরক্ষা ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে রাশিয়ার এই আক্রমণ কেবল সামরিক লক্ষ্য নয়, বরং বেসামরিক জনগণের ওপর চাপ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার ক্ষেত্রে রাশিয়ার অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি কৌশল হতে পারে। তারা আরও যোগ করেন যে রাশিয়ার এই ধারাবাহিক আক্রমণ ইউক্রেনের মানবিক সংকটকে তীব্র করে তুলবে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বাড়াবে।
ইউক্রেনের সরকারী জরুরি সেবা বিভাগ এই ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার কাজ চালিয়ে গেছে এবং আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে, বোহোদুখিভের বাসিন্দারা আতঙ্কে ভুগছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা চাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই আক্রমণকে একটি বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার রাশিয়া সরকার এই হামলার জন্য কোনো মন্তব্য করেনি, তবে পূর্বে রাশিয়া সরকার বলেছে যে তারা “সামরিক লক্ষ্য” রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে।
এই ঘটনার পর, ইউক্রেনের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই বিষয়টি উত্থাপন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নতুন আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।
বোহোদুখিভের এই দুঃখজনক ঘটনা রাশিয়ার আক্রমণাত্মক নীতি এবং ইউক্রেনের নাগরিকদের ওপর প্রভাবের একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপগুলোই নির্ধারণ করবে যে এই ধরনের হামলা আর কখনো না ঘটার জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



