29 C
Dhaka
Wednesday, February 11, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সরকারকে চীনের বিকল্প রক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তাব করবে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সরকারকে চীনের বিকল্প রক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তাব করবে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতবাবু ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের মতে, চীনের দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী সরকারকে চীনের সামরিক সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সিস্টেম প্রস্তাব করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী বৃহস্পতিবার সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠন করবে; আগস্ট ২০২৪-এ জেন জেড নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদে ভারত এ‑মিত্র শীর্ষমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনা বাদ পড়ে। তৎপরই তিনি নিউ দিল্লিতে আশ্রয় নেন, ফলে চীনের প্রভাব বাড়তে থাকে যখন ভারত এ‑এর উপস্থিতি হ্রাস পায়।

চীন সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একটি রক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা ভারত এ সীমানার নিকটে একটি ড্রোন কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করে। এই চুক্তি বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক পাকিস্তানের সঙ্গে জে-এফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান ক্রয়ের আলোচনায় রয়েছে, যা চীনসহ যৌথভাবে উন্নত করা হয়েছে।

ক্রিস্টেনসেন মঙ্গলবার একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব সম্পর্কে উদ্বিগ্ন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সরকারকে চীনের সঙ্গে নির্দিষ্ট ধরনের সহযোগিতার ঝুঁকি স্পষ্টভাবে জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বিকল্প সরবরাহ করতে প্রস্তুত, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সিস্টেম এবং মিত্র দেশগুলোর সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত, যাতে বাংলাদেশ ব্যাংক চীনের সরঞ্জামের বিকল্প পেতে পারে।”

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ক্রিস্টেনসেনের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালে “বাংলাদেশ ব্যাংক ও ভারত এ‑এর মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ”।

শেখ হাসিনার নিউ দিল্লি থেকে পালানোর পর নতুন দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি ঘটেছে; ভিসা সেবা ও ক্রিকেটের মতো সাংস্কৃতিক বিনিময়েও বাধা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংযোগের ওপর প্রভাব ফেলছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ও বাংলাদেশ ব্যাংকে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছে, তবে তারা নতুন সরকারের স্পষ্ট ও দ্রুত ব্যবসায়িক উন্মুক্ততার সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে। ক্রিস্টেনসেন উল্লেখ করেন, “বাণিজ্যিক কূটনীতি আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার, এবং আমরা নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে অগ্রগতির ভিত্তিতে কাজ করতে প্রস্তুত।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় চীনের সঙ্গে রক্ষা চুক্তি, পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধবিমান ক্রয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প সরবরাহের প্রস্তাবের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে। এই বিষয়গুলো পরবর্তী মাসে কূটনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের পেছনে লক্ষ্য হল চীনের সামরিক উপস্থিতি সীমিত করা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করা। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে বহুমুখী বিকল্প সরবরাহ করা।

অঞ্চলীয় বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, যদি বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহিত সিস্টেম গ্রহণ করে, তবে চীনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা হ্রাস পেতে পারে, যা ভারত এ‑এর কৌশলগত অবস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করবে। তবে চীনও তার প্রভাব বজায় রাখতে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো প্রকল্প চালিয়ে যাবে।

নির্বাচনের ফলাফল এবং নতুন সরকারের নীতি দিক নির্ধারণের পর, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ বাংলাদেশ ব্যাংকের কূটনৈতিক ও রক্ষা নীতির দিকে ফিরে আসবে। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত এ এবং পাকিস্তানসহ প্রধান শক্তিগুলোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে পুনর্গঠন করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতবাবু বাংলাদেশ ব্যাংকের সরকারকে চীনের বিকল্প রক্ষা ব্যবস্থা প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা নির্বাচনের পরপরই কূটনৈতিক আলোচনার মূল বিষয় হয়ে উঠবে। এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন ও প্রতিক্রিয়া দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক গতিপথকে প্রভাবিত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments